জামালপুর ও ময়মনসিংহে বজ্রপাতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া, বরিশালে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশে বজ্রপাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন।
জামালপুর
আজ বুধবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
তারা হলেন—ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মোরাকান্দি গ্রামের টংরাপাড়া এলাকার শামীম (৩৮) ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া গ্রামের সাগর (১৩)।
শামীম পেশায় জেলে এবং সাগর শ্রমিক ছিলেন।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ ভোর ৫টার দিকে শামীম সহকর্মী জেলেদের সঙ্গে মাছ ধরতে নদীতে যান। সেখানে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অপর দিকে, সাপধরি ইউনিয়নের একটি সড়ক নির্মাণ কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান সাগর।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল কাইয়ুম গাজী বলেন, ‘বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
ময়মনসিংহ
আজ দুপুরে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় রাংসা নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় মৃত মো. সাদ্দাম হোসেন (২৮) তারাকান্দার গাবরাগাতী গ্রামের হামেদ আলীর ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যদের বরাতে তারাকান্দা থানার ওসি মো. তানভীর আহমেদ বলেন, আজ দুপুরে সাদ্দাম তার বাড়ির কাছে স্থানীয় রাংসা নদীতে মাছ ধরতে যান। হঠাৎ বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে স্থানীয়রা তার মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসে।
বরিশাল
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাশে বজ্রপাতের ঘটনায় এক শিক্ষকসহ ১৬ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ক্লাস চলাকালে উপজেলার চরএককরিয়া ইউনিয়নের দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দাদপুর তেমুহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, দুপুর সোয়া ২টার দিকে বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটি শুরু করে এবং অনেকে ভয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এ সময় একজন শিক্ষক ও সাতজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে ছয়জনকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
একই সময়ে আলীমাবাদ ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বজ্রপাতের ঘটনায় আরও আটজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানান বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য বাহাদুর মৃধা।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. নিজাম উদ্দিন ফকির বলেন, ‘বজ্রপাতের বিকট শব্দে আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীরা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
বরিশাল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল জব্বার জানান, বিদ্যালয়ের খুব কাছে বজ্রপাত হওয়ায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

