২ রোহিঙ্গার এনআইডি: ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের নামে মামলা

নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে দুই রোহিঙ্গাসহ কয়েকজনকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার অভিযোগে মামলায় স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার হয়েছেন কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. কাঞ্চন মিয়া (২৯) ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী মঞ্জুরুল মিয়া (২৫)। আজ ভোররাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা দ্য ডেইলি স্টারকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় মামলাটি করেন। মামলায় রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান পাঠানসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আউটসোর্সিং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. আরিফ মিয়া (৩৪), আউটসোর্সিং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা (৩০), রংছাতি ইউনিয়নের শান্তিনগর গ্রামের ওমর আলী (৪৯) এবং ভলাপাড়া গ্রামের মোকসেদ আলী (৪৪)।

অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা নির্বাচন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে অবৈধভাবে কয়েকজনের এনআইডি নিবন্ধন সম্পন্ন করেন। এরপর সার্ভারে তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ আপলোড করা হয়। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির আগে সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে এসব তথ্যের জালিয়াতি ধরা পড়ে। সিসিটিভি ফুটেজেও জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

এই ঘটনায় গত ২০ জুলাই কাঞ্চন ও মঞ্জুরুলসহ নির্বাচন কার্যালয়ের প্রকল্পের চাকরি থেকে চার কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়। মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানসহ অন্যদের জালিয়াতিতে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।

কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।

Related Articles

Latest Posts