হাসানের হ্যাটট্রিকে লিটন-শান্তর ভূমিকা

টানা তিন বলে উইকেট। তাতেই ইতিহাস গড়েছেন হাসান মাহমুদ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের এই পেসারের হ্যাটট্রিকের পেছনে যেমন ছিল নিখুঁত লাইন-লেংথে বোলিং, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন উইকেটকিপার লিটন দাস ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বিশেষ করে হ্যাটট্রিকের শেষ উইকেটটি পেতে ডিআরএস নেওয়ার সিদ্ধান্তে সতীর্থদের পরামর্শ কাজে এসেছে বলে জানিয়েছেন হাসান।

আবুধাবিতে ম্যাচের তৃতীয় দিনে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংসের ৮৩তম ওভারে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হাসান। ওভারের তৃতীয় বলে ইসমাত আলমকে বোল্ড করে শুরু করেন উইকেটের উৎসব। পরের বলে ক্রিজে আসা কাইস আহমেদকে আউটসাইড এজে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন তিনি। দারুণ ক্ষিপ্রতায় সেই ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেন লিটন দাস।

হ্যাটট্রিকের জন্য তখন হাসানের প্রয়োজন আর একটি উইকেট। ওভারের পঞ্চম বলে জিয়াউর রহমানকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এই পেসার। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পে আঘাত করত। তাতেই পূর্ণ হয় হাসানের হ্যাটট্রিক।

সম্প্রচারকারীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ডিআরএস নেওয়ার সিদ্ধান্তে অধিনায়ক শান্ত ও লিটনের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন হাসান। আগের দিনও এমন পরিস্থিতিতে রিভিউ নেওয়া নিয়ে দলের মধ্যে সংশয় ছিল বলে জানান তিনি। তবে এবার সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন।

হাসান বলেন, ‘প্রথম ইনিংসে গত কয়েক দিনেও আমরা এমন পরিস্থিতিতে পড়েছি। সবাই ভাবছিল, ডিআরএসে কী হবে, বল স্টাম্পে আঘাত করবে কি না। অধিনায়ক ও লিটন দাসকে কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলেছে, আমার সঙ্গেও আলোচনা করেছে। এরপর আমাকে বুঝিয়েছে, বল স্টাম্পে আঘাত করবে, তাই রিভিউ নেওয়া যায়।’

তবে হাসানের মতে, সাফল্যের মূল চাবিকাঠি ছিল নিজের পরিকল্পনায় অটল থাকা। আগের দিন পুরোটা সময় বোলিং করে মাত্র একটি উইকেট পেলেও তিনি নার্ভাস হননি। বরং স্টাম্প বরাবর বল করে যাওয়া এবং বলকে নিজের কাজ করতে দেওয়ার দিকেই মনোযোগ ছিল তার।

‘বোলিং শুরু করলে আপনি চেষ্টা করেন সোজা বল করতে, বল সুইং করাতে এবং উইকেট নিতে। আমি সেটাই করার চেষ্টা করেছি। সকালে এমন একটা মুহূর্ত পেয়ে খুব ভালো লাগছে। গতকাল সারা দিনে মাত্র একটি উইকেট পেয়েছিলাম, কিন্তু মোটেও নার্ভাস ছিলাম না। শুধু মনে হচ্ছিল, সোজা বল করতে হবে, বাকিটা বলকে করতে দিতে হবে,’ বলেন হাসান।

 

Related Articles

Latest Posts