যৌতুকের অভিযোগ নিয়ে এক মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেছেন, স্ত্রী বা তার পরিবারের কাছে টাকা চাওয়াই যৌতুক নিরোধ আইনের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এটা তখনই অপরাধ হবে যদি সেটা যৌতুকের আইনি সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
আজ রোববার ২১ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।
এতে বলা হয়, স্বামীর শুধু টাকা দাবি করাই যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারায় অপরাধ নয়। এটি আইনের একটি মীমাংসিত নীতি।
আগের একটি মামলার (মিহির লাল সাহা পোদ্দার বনাম ঝুনু রানী সাহা) রায়কে সমর্থন করে হাইকোর্ট বলেছেন, বিয়ের শর্ত হিসেবে এই টাকা চাওয়া হয়েছিল, এমন কোনো অভিযোগ নেই। আইনের অধীন যৌতুকের সংজ্ঞায় না পড়লে কোনো টাকা বা সম্পদকে যৌতুক বলা যাবে না।
গত ১৫ জুন এই বেঞ্চ এই রায় দেয়। যৌতুকের একটি মামলা থেকে সাবেক স্বামী মাহমুদুল আলম সোহাগকে বিচারিক আদালতের দেওয়া খালাসের রায় চ্যালেঞ্জ করে রিভিশন আবেদন করেছিলেন মাহবুবা মোহাম্মদ বাবন। ওই আবেদনের শুনানি শেষেই রায়টি দেন হাইকোর্ট।
রায়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল মাহমুদুলের বিরুদ্ধে সাড়ে ৪ কোটি টাকা যৌতুক দাবির অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে প্রাডো গাড়ি কিনতে দেড় কোটি, বহুতল ভবন নির্মাণে দুই কোটি ও ব্যবসার জন্য এক কোটি টাকা চাওয়া হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, তার পরিবার এই টাকা দিতে রাজি হয়নি। এরপর স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। টাকা না দিলে তাকে তালাক দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করার হুমকি দেন মাহমুদুল। পরে ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি মাহমুদুলকে তালাক দেন মাহবুবা। এরপর তিনি মামলাটি করেন।
হাইকোর্ট পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলেছেন, অভিযোগকারী তার দাবি প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন।
রায়ে আরও বলা হয়, পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে বিচারিক আদালত আসামিকে খালাস দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলেন। স্বাধীনভাবে সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনা করেই বিচারিক আদালত ওই রায় দিয়েছিলেন।
মাহবুবার আইনজীবী ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে তৈরি আছেন তিনি।

