যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখতে চায় না, বরং তারা এটি খোলা রাখতে চায় যেন দিনে ৫০০ মিলিয়ন ডলার উপার্জন করা সম্ভব হয়।
প্রণালিটি বন্ধ থাকায় ইরান প্রতিদিন এই বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলেও দাবি তার। গতকাল মঙ্গলবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব দাবি করেন। আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে।
নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমি এটি পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছি বলেই তারা লোকদেখানোভাবে এটি বন্ধ করার কথা বলছে। তারা আসলে স্রেফ নিজেদের মুখ রক্ষা করতে চাইছে।
ট্রাম্পের দাবি, মাত্র চার দিন আগে কয়েকজন্য ব্যক্তি তার কাছে এসে জানান, ইরান এখনই এই প্রণালি খুলে দেওয়ার পক্ষে।
ইরান প্রসঙ্গে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, তবে আমরা যদি সেটা করি, তবে ইরানের সঙ্গে চুক্তির সব পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে, যদি না আমরা তাদের নেতাদেরসহ পুরো দেশটাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিই।
এদিকে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি সমালোচনামূলক নিবন্ধের কড়া জবাব দিতে গিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে একগুচ্ছ নতুন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
তাকে ‘বোকা’ বানানোর ইরানি কৌশলের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প জানান, গত ৪৭ বছরে যা হয়নি, তিনি তা করে দেখিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে তেহরান প্রত্যেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুযোগ নিয়ে এসেছে, কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই।
তিনি বলেন, আমি তাদের কী দিয়েছি? একটি বিধ্বস্ত দেশ!
এরপর ট্রাম্প তার সাফল্যের এক দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরে দাবি করেন, ইরানের পুরো নৌবাহিনী এখন সমুদ্রের তলদেশে, তাদের বিমান বাহিনী শেষ হয়ে গেছে, বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা ও রাডার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পারমাণবিক গবেষণাগার ও গুদামগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন; ইরানি বাহিনী হামলা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াবে। তবে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

