স্প্যানিশদের ‘জীবন কঠিন’ করে তুলতে চান লুকাকু

ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে নিজেদেরকে ‘আন্ডারডগ’ মেনে নিয়ে বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া বলেছেন, স্প্যানিশদের বিদায় নিশ্চিত করে অঘটন ঘটানোর মতো ফুটবলার এবং আত্মবিশ্বাস তার আছে। 

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই স্পেনকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই দাবি মেনে নিতে কোনো আপত্তি নেই গার্সিয়ার। নিজেও স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিয়ে এই ফ্রেঞ্চ ম্যানেজার বলেছেন, ‘আমরা জানি টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিটদের মুখোমুখি হচ্ছি। বল নিজেদের পায়ে রাখার ক্ষেত্রে স্পেন সম্ভবত সবার সেরা। গত ১৫-২০ বছর ধরে তারা নিজেদের খেলার একটি পরিচিত স্টাইল তৈরি করেছে। তবে আমাদের দলটাও দারুণ। আমরা জানি এখনও পর্যন্ত তারা কোনো গোল হজম করেনি, কিন্তু পরিসংখ্যান তৈরিই হয় ভাঙার জন্য। এই বিশ্বকাপে আমরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করেছি। আমরা এমন এক দলের বিপক্ষে নামছি যাদের প্রত্যাশিত গোলের (এক্সপেক্টেড গোল)  অনুপাত সবচেয়ে বেশি। আমরা স্পেনকে হারানোর ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী’। 

এই টুর্নামেন্টে বেলজিয়ামের (১৩) চেয়ে বেশি গোল করেছে কেবল ফ্রান্স (১৬) ও আর্জেন্টিনা (১৪)। 

স্পেনের স্কোয়াডে গভীরতা থাকলেও গার্সিয়া বলছেন, তার কাছেও দুটি দল আছে যারা নিজেদের কাজ সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল, ‘হয়তো কেউ কেউ আমাদেরকে এখন নতুন করে চিনছেন, তবে আমি এই দলটাকে হৃদয় থেকে চিনি। ভালো সময়ে এই দলের মাহাত্ম্য বোঝা যায় না। আমার দুইটি দল আছে। এক দল ম্যাচটা শুরু করে, আরেকদল ম্যাচ শেষ করে। আমাদের রিজার্ভ বেঞ্চ শক্তিশালী ও মানসম্পন্ন। এবং আমার হাতে সময়ের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার’। 

গার্সিয়া যার কথা বলেছেন, সেই স্ট্রাইকার হলেন রোমেলু লুকাকু। সংবাদ সম্মেলনে কোচের পাশেই ছিলেন এই স্ট্রাইকার। কোচের কথার প্রতিধ্বনি শোনা গেছে লুকাকুর কণ্ঠেও। নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে স্প্যানিশদের ‘জীবন কঠিন’ করে তুলতে চান এই নাপোলি ফরোয়ার্ড, ‘টুর্নামেন্টে এতদূর এসে আপনি নিশ্চয়ই বাড়ি ফিরতে চাইবেন না। স্পেন দারুণ একটি দল। দুই উইংয়ে তাদের গতিশীল ফুটবলার আছে, তাদের গভীরতাও দারুণ। কিন্তু আমরা ভালোভাবেই প্রস্তুত আছি এবং তাদের জীবন কঠিন করে তোলার মতো রসদ আমাদের আছে’। 

টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার শুরুর একাদশে ছিলেন লুকাকু। কিন্তু বদলি হিসেবে নেমেও তিন গোল করেছেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সী লুকাকু বলছেন, গত এপ্রিলেই কোচ গার্সিয়ার সাথে কথা বলে এই বেলজিয়াম দলে তার ভূমিকা কী হবে সেটি নিশ্চিত হয়ে নিয়েছেন তিনি, ‘কোচ আমাকে একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা পালনের ব্যাপারে বলেছিলেন, এবং আমি সেটায় রাজি হয়েছিলাম। আমাদের কাছে দল সবার আগে। আমি মাঠে ও মাঠের বাইরে দলকে সাহায্য করতে চেষ্টা করি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে খেলাটা মস্তিষ্ক দিয়েও খেলতে হয়’। 

সিয়াটলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে বিদায় করে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বেলজিয়াম। অনুমিতভাবেই ৮০ হাজার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন লস অ্যাঞ্জেলেসে যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকরা বেলজিয়ামদের পরিস্থিতি কঠিন করে তুলতে চাইবেন। তবে কোচ গার্সিয়া আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন, তার দলের মনোযোগ নষ্ট করা এত সহজ হবে না, ‘আমরা মাত্রই যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নিজেদের মাঠে হারিয়েছি, যেখানে সবাই আমাদের বিপক্ষে গলা ফাটাচ্ছিল। দর্শকরা কিন্তু মাঠে নেমে গোল করবে না। আমি জানি না মাঠের পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তবে আমরা মাঠে কী করতে পারি সেদিকেই পূর্ণ মনোযোগী হচ্ছি’।

এমনকি বালোগুনের লাল কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা বাতিলের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে লাখো নতুন বেলজিয়াম সমর্থক তৈরি হয়েছে বলেও বিশ্বাস গার্সিয়ার। এই নতুন সমর্থকরা তাকে অনুপ্রাণিত করছে বলেও মন্তব্য করেছেন গার্সিয়া, ‘আগে আমাদের ১২ মিলিয়ন সমর্থক ছিল। গত কয়েক দিনের ঘটনায় আমরা নতুন অনেক সমর্থককে আমাদের পাশে পেয়েছি, যেটা এই ম্যাচে আমাদের পক্ষে কাজ করবে। তারা আমাদের আরও শক্তিশালী করবে’। 

 

 

Related Articles

Latest Posts