গাজায় ইসরায়েলি সহিংসতার বিরুদ্ধে যথেষ্ট সোচ্চার হয়নি যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। দলের এই কৌশল ‘ভুল’ ছিল বলে মত দেন দলের ও দেশের সম্ভাব্য নেতা অ্যান্ডি বার্নাম। এ বিষয়টির জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
বার্নাম বলেন, ‘আমরা ভুল করেছি।’
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী বার্নাম বলেন, ‘অনেকেই মনে করেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের শুরুতে আমার দল পুরো পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেনি। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
Labour’s initial response to the treatment of Gaza caused huge hurt. We got it wrong and I am sorry for that. pic.twitter.com/MtQxhp71J3
— Andy Burnham (@andyburnham) July 9, 2026
‘আমাদের প্রতিক্রিয়া দুর্বল ছিল। আরও ভালো কিছু করা উচিত ছিল আমাদের’, যোগ করেন তিনি।
বার্নামের মতে, সে সময় যুক্তরাজ্য কয়েকটি সঠিক উদ্যোগ নিয়েছিল।
যার মধ্যে আছে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি, ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে বিধিনিষেধ আরোপ এবং সহিংস অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে কয়েক ধাপে বিধিনিষেধ আরোপের মতো উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, ‘তবে আমাদের বিষয়টি নিয়ে নিজের কাছে সৎ থাকতে হবে। যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে যুক্তরাজ্য অনেক বেশি সময় নিয়েছে। এখন আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও বলিষ্ঠ আকারে প্রকাশ করতে হবে।’
তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও ইসরায়েলিরা নিয়মিত গাজায় হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে। অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা সহিংসতায় মেতে উঠছেন এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নতুন ও অবৈধ বসতি স্থাপন করে চলেছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চালু হওয়া তথাকথিত যুদ্ধবিরতির পরও গত ১০ মাসে নতুন করে এক হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এই তথ্যের দিকে ইঙ্গিত করে বার্নাম বলেন, ‘এ কারণেই আমাদের আরও কঠোর উদ্যোগ নিতে হবে। যারা গাজার সহিংসতার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। পাশাপাশি, অবৈধ বসতিতে বসবাসকারী ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগও বিবেচনায় নিতে হবে।’
তবে এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেননি লেবার পার্টির ওই পার্লামেন্ট সদস্য।
বার্নাম বলেন, ‘ইসরায়েলি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য আমাদের আরও উদ্যোগ নিতে হবে।’
তবে লেবার পার্টির আরও কয়েকজন নেতার মতো তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনেননি।
লেবার পার্টির এই অভিজ্ঞ নেতা বলেন, ‘সেখানে (গাজায়) যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে, এমন প্রমাণের সংখ্যা বাড়ছে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের আন্তর্জাতিক আইনের ওপর নির্ভর করতে হবে।’
তিনি মত দেন, যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই গাজা উপত্যকার সহিংসতার নিন্দা জানাতে হবে। তবে একই সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসের হামলা এবং ফলশ্রুতিতে যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষের ঘটনাগুলোরও নিন্দা জানাতে হবে।
যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে ইসরায়েল প্রসঙ্গে লেবার পার্টির ভূমিকা তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
দলের কট্টর সমর্থকদেরও একটি বড় অংশ মত দেয়, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক হামলার প্রতি ‘অত্যন্ত দুর্বল’ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবার পার্টি।
দল, তথা সরকারের পক্ষ থেকে ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি’ চালুর দাবি আসেনি। যার ফলে অনেক তরুণ সমর্থক লেবার পার্টি থেকে মুখ ফিরিয়ে কার্লা ডেনিয়ারের নেতৃত্বাধীন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়ে।
সাম্প্রতিক মতামত জরিপে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যে লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হতে চলেছেন অ্যান্ডি বার্নাম। এরপর তার প্রধানমন্ত্রীত্ব অর্জন হবে শুধুই সময়ের ব্যাপার।

