আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি। এ লক্ষ্যে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিটি এলাকায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
দলের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলে একই এলাকা থেকে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই নিজেকে দলের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে দাবি করতে পারেন। এতে দলের সমর্থন বিভক্ত হতে পারে, পছন্দের প্রার্থী দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা সুবিধা পেতে পারেন।
এ কারণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু করতে ও পরামর্শের ভিত্তিতে নির্বাচিত প্রার্থীর পক্ষে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর সমর্থন নিশ্চিত করতে স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।
এ ছাড়া নির্বাচনের আগে দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি এবং বিএনপিসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন সম্পন্ন করারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর জেলার নেতাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এক সাংগঠনিক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের বিষয়ে পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও দলের পুনর্গঠন নিয়ে তারেক রহমান বেশ কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কীভাবে দল একক প্রার্থী বেছে নেবে, সে বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
বৈঠক-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রার্থীরা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সমর্থন পেতে পারেন। তবে দলীয় প্রতীক না থাকলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ওপর বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। একই এলাকা থেকে একাধিক নেতা নির্বাচনে অংশ নিলে প্রত্যেকেই নিজেকে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন। এতে দলীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রার্থী নির্বাচনে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারেক রহমান। পাশাপাশি প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের সার্বিক দায়িত্ব কী হবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন—নির্বাচন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হবে। আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে পুরোপুরি নির্দলীয় এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে চাই। তিনি আরও বলেছেন—নির্বাচনে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত সম্মিলিতভাবে নিতে হবে এবং দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
দলীয় প্রতীক না থাকলে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করার সক্ষমতাও সীমিত হতে পারে বলে মনে করছে বিএনপি। তাই দলটির বিশ্বাস, আগেভাগে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারলে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে বিরোধ মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় নেতা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নেতৃত্বের। এ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য তৃণমূলের বিভক্তি নিরসন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা।
মির্জা ফয়সল বলেন, ‘দলকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করতে তারেক রহমান আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে পুনর্গঠন সম্পন্ন হলে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি, প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া সুসংগঠিত করা এবং তৃণমূলে দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সহজ হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতিও নিতে চায় বিএনপি। তাই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতিকে শুধু নির্বাচনী কার্যক্রম হিসেবে নয়, বরং দলকে পুনর্গঠন এবং তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

