ফিফা বিশ্বকাপে প্রতিটি দলের জন্যই নির্দিষ্ট করা থাকে সর্বোচ্চ ২৬ জনের স্কোয়াড। তবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবার যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছে ২৭ জন ফুটবলারের বহর নিয়ে।
রোববার রাতে নিউজার্সিতে অনুষ্ঠেয় ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হতে যাওয়া আলবিসেলেস্তেদের কোনো ম্যাচের খেলোয়াড় তালিকায় নাম নেই তার। তবে দলের সঙ্গেই থাকছেন এই ২৭ নম্বর সদস্য। তিনি হলেন ১৯ বছর বয়সী গোলরক্ষক ম্যাক্সিমো লেগিজামন।
শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে থাকা কোচ লিওনেল স্কালোনির দলের একমাত্র ‘স্পারিং পার্টনার’ বা অনুশীলন সহযোগী হিসেবে আছেন তিনি। বর্তমানে এই তরুণ খেলছেন আর্জেন্টাইন ক্লাব তিগ্রেতে। গত ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও একজন অনুশীলন সহযোগী রেখেছিল আর্জেন্টিনা। মজার ব্যাপার হলো, সেবার স্কোয়াডে থাকা ফ্রান্সিসকো গোমেস গের্থও ছিলেন একই পজিশনের, অর্থাৎ গোলরক্ষক। আর খেলতেন এই তিগ্রে ক্লাবেই।
এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগে প্রস্তুতির জন্য আরও বেশ কয়েকজন তরুণকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকে গেছেন কেবল ১.৯০ মিটার (প্রায় ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি) উচ্চতার এই লেগিজামন।
এখনও ক্লাবের মূল দলের হয়ে অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন তিনি। তবে তাকে বিবেচনা করা হচ্ছে তিগ্রের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ফুটবলার হিসেবে।
গোলরক্ষক হলেও ২০২২ সালে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল ভিন্ন কারণে। চতুর্থ বিভাগের একটি ম্যাচে নিজেদের ডি-বক্স থেকে শট নিয়ে পুরো মাঠ পার করে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছিলেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারে সেটি তার প্রথম গোল ছিল না। এর আগে সপ্তম ও ষষ্ঠ বিভাগেও জালের দেখা পেয়েছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও ফ্রাঙ্কো আরমানিকে আদর্শ মানা লেগিজামন।
গ্রেটার বুয়েনস এইরেসের উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলির এসকোবার জেলার ক্লাব সোশ্যাল মাথেউয়ের বয়সভিত্তিক দলে ফুটবলে তার হাতেখড়ি। সেখানে কখনো মাঠে নেমে খেলতেন, আবার কখনো গ্লাভস হাতে গোলপোস্ট সামলাতেন।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিগ্রের গ্রীষ্মকালীন ট্রায়ালে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে আর গ্লাভস খুলতে হয়নি তাকে। দারুণ রিফ্লেক্স এবং বাতাসে ভেসে আসা বল ঠেকানোর দক্ষতায় ইতোমধ্যে নজর কেড়েছেন তিনি। যে কারণে গত মে মাসে তিগ্রে তার সঙ্গে ২০২৯ সাল পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করেছে।
মূলত দলের তিন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো, জেরোনিমো রুল্লি ও হুয়ান মুসসো এবং গোলরক্ষক কোচ মার্তিন তোকাল্লির সঙ্গে অনুশীলনের সুবিধার্থেই একজন তরুণ সহযোগীকে সাথে নেওয়ার এই কৌশল।

