সাতক্ষীরায় অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যা, স্বামী পলাতক

সাতক্ষীরায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত নারী তাছলিমা খাতুনের (৩৮) বাড়ি সদর উপজেলার উত্তর বহেরা গ্রামে। তিনি নুরুজ্জামানের মেয়ে। আর স্বামী সাদ্দাম হোসেন (৪২) লক্ষ্মীদাড়ী গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, তাছলিমা ও সাদ্দাম দম্পতির ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়ে ও ৯ বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এ ছাড়া ওই নারী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

তাছলিমার বড় মেয়ে সাদিয়া খাতুন জানায়, তার বাবা প্রায়ই মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করতেন ও হত্যার হুমকি দিতেন। শনিবার রাতে তার বাবা পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। রাত ১১টার দিকে মাকে ডেকে অন্য ঘরে নিয়ে যান বাবা।

কিছুক্ষণ পর শব্দ শুনে সাদিয়া ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করে দেখে বাইরে থেকে দরজায় তালা দেওয়া।

তাছলিমার বাবা নুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, যৌতুকের দাবিতে সাদ্দাম প্রায়ই তার মেয়েকে মারধর করতেন। টাকা দিলে কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকত। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোনে তিনি খবর পান, তার মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাছলিমার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts