বেসামরিক রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো রাশিয়া সফরে গেছেন মিয়ানমারের সাবেক সেনাপ্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং।
আজ সোমবার নেপিদোর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, হ্লাইংয়ের রাশিয়া সফরের মূল লক্ষ্য ‘মিয়ানমার ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আরও সুসংহত করা এবং কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানো’।
বিবৃতিতে আলাদাভাবে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হামলায় রাশিয়ায় তৈরি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে মিয়ানমার।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী কয়েকটি সংস্থা বলছে, এসব হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমার ও রাশিয়া পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক সহযোগিতা চুক্তিতে সই করে।
তবে ওই চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
প্রেসিডেন্ট হ্লাইংয়ের কার্যালয় জানিয়েছে, অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সোমবার সকালে নেপিদো থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি।
এই সফরে তিনি রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্তিন ও পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ দুমার স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
পাশাপাশি মিয়ানমার-রাশিয়া অর্থনৈতিক ফোরামেও অংশ নেবেন।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন বেসামরিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান অং সান সুচির সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন সেনাপ্রধান হ্লাইং।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এই কর্মকাণ্ডে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। ক্ষমতার হাতবদলের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। গত পাঁচ বছরে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘাতে এক লাখেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
গত পাঁচ বছরে হাতেগোনা কয়েকটি দেশ মিয়ানমারের সামরিক জান্তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, যাদের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম।
চলতি বছরের এপ্রিলে সাধারণ নির্বাচনে সেনাসমর্থিত দল বিজয়ী হয়। এরপর দলটি পার্লামেন্টে ভোটের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নেয়।
পশ্চিমা দেশ ও পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া ‘প্রহসনমূলক’। এতে প্রধান বিরোধী দলগুলোকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি এবং মিয়ানমারের বিদ্রোহীদের দখলে থাকা অঞ্চলগুলোতে ভোট হয়নি।
বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মিয়ানমারকে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন মিন অং হ্লাইং।
এ লক্ষ্যে এপ্রিল থেকে তিনি চীন, ভারত ও প্রতিবেশী থাইল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ সফর করেছেন।

