মেসিকে ছাড়া একই পরিচয়ে খেলাই স্কালোনির চ্যালেঞ্জ

লিওনেল মেসি নেই, কিন্তু আর্জেন্টিনার ফুটবল-পরিচয় বদলাতে চান না লিওনেল স্কালোনি। বলিভিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়ে মেসি পরবর্তী যুগ শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। তবে ফলাফলের চেয়েও স্কালোনির কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলটি কীভাবে খেলেছে। তার বার্তা পরিষ্কার, মেসি অনন্য, তাকে বদলানোর চেষ্টা নয়; বরং তার অনুপস্থিতিতেও বল পায়ে একই দর্শন ও পরিচয় ধরে রাখাই এখন আর্জেন্টিনার বড় চ্যালেঞ্জ।

বলিভিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি জানান, বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রথম আলোচনাতেও তিনি একই বার্তা দিয়েছিলেন, যা ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পর দিয়েছিলেন। তখন শিরোপা জয়ের পর থেমে না গিয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। এবারও হারের পর খেলোয়াড়দের সামনে একই পথের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

‘প্রথম আলোচনায় আমি কথা বলেছি এবং নিজের মতামত জানিয়েছি। কাতারের পরের আলোচনার মতোই ছিল সেটি। তখন বলেছিলাম, আমরা জিতেছি, এখন আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এবারও একই কথা বলেছি। ফলাফল আমাদের পক্ষে না গেলেও আমাদের এগিয়ে যেতে হবে,’ বলেন স্কালোনি।

বিশ্বকাপের ফাইনালে হারলেও দলের সঙ্গে এই পথচলা চালিয়ে যেতে চাওয়া খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত আর্জেন্টিনার কোচ, ‘আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাব। এরপর বল জালে ঢুকতেও পারে, নাও পারে। যারা এই দলে থাকতে চায়নি, তারা খোলাখুলি বলতে পারত। এতে কোনো সমস্যা ছিল না।’

বিশ্বকাপের পর আবার মাঠে নামার চাপ বা ঝুঁকি নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না স্কালোনি, ‘আপনি কখনো ভাবেন না যে কী ঝুঁকি নিচ্ছেন। বরং উল্টোটা ভাবেন, এই ছেলেদের খেলতে দেখা কতটা দারুণ, তাদের মাঠে ঢুকতে দেখা কতটা ভালো লাগার।’

মেসির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনা কীভাবে খেলবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। স্কালোনির কাছে এর উত্তরও পরিষ্কার। মেসিকে কেউই প্রতিস্থাপন করতে পারবেন না বলে জানিয়ে তিনি বলেছেন, দলটির খেলার ধরনই হতে হবে মূল ভিত্তি।

‘মেসি অপরিবর্তনীয়। আমরা একইভাবে খেলার পথ খুঁজে নেব। পাসের পর পাস, বল নিজেদের দখলে রেখে। এটা এমন একটি পরিচয়, যা দলে কে আছে বা নেই, তার ওপর নির্ভর করে না। পরিচয়টা আমাদের আছে। চ্যালেঞ্জ হলো একইভাবে খেলে যাওয়া এবং যারা দলে আসবে, তাদের বোঝানো যে এভাবেই আমরা খেলি। বলের মাধ্যমে আমাদের মূল সত্তা সবসময় একই থাকবে। একইভাবে খেলে যাওয়াই চ্যালেঞ্জ,’ বলেন স্কালোনি।

বলিভিয়ার বিপক্ষে কারও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সকে আলাদা করে সামনে আনতেও রাজি হননি তিনি। বরং পুরো দল এবং বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা খেলোয়াড়দের মানসিকতার প্রশংসা করেছেন তিনি, ‘ছেলেরা এই জার্সি পরে যেভাবে খেলা উচিত, সেভাবেই খেলেছে। সবাই নিজের জায়গা থেকে অবদান রাখতে চেয়েছে। ফলাফলের বাইরে আমি খুশি, কারণ পরিষ্কার হয়েছে দলের একটি পরিচয় আছে এবং যেই খেলুক, আমরা সেটি ধরে রাখব।’

ম্যাচটিতে নিজেদের পদ্ধতিটা ধরে রাখাই দলের সবচেয়ে বড় সাফল্য জানিয়ে এই কোচ বলেন, ‘দল পুরো ম্যাচটাই ভালো খেলেছে। তারা যেভাবে ম্যাচটি নিয়েছে, বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে এখানে আছে, তাদের দেখে আমার ভালো লেগেছে। আমার মতে, ম্যাচে যাওয়ার অন্য কোনো উপায় নেই। এই জার্সির ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখাতে হলে এভাবেই খেলতে হবে।’
 

Related Articles

Latest Posts