ভিনির বদলে গিমারেসের পেনাল্টি নেওয়ার কারণ জানালেন আনচেলত্তি

ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পেয়ে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। পেনাল্টি নিতে শুরুতে ছুটে যান ভিনিসিউস জুনিয়র। কিন্তু বল নিয়ে হুট করেই তুলে দেন ব্রুনো গিমারেসের কাছে। মিডফিল্ডে দারুণ খেলা গিমারেস সুর্বণ সুযোগ হাতছাড়া করেন হেলায়। ব্রাজিল নরওয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তুমুল সমালোচনা। ম্যাচ শেষে অবশ্য কোচ কার্লো আনচেলত্তি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। 

ব্রাজিলের কোচ জানান এই সিদ্ধান্তটি কোনো আবেগের বশে নয়, বরং তথ্য ও পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে নেওয়া হয়েছিল।

গিমারেসের প্রথমার্ধের দুর্বল পেনাল্টি শটটি নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান ন্যাল্যান্ড আটকে দেন, যা ব্রাজিলের ২-১ গোলের হারের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই হারের ফলে ১৯৯০ সালের পর প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল সেলেসাওরা।

নিউকেসল ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডারকে পেনাল্টি নিতে দেখে অনেক সমর্থকই অবাক হয়েছিলেন, বিশেষ করে মাঠের শুরুর একাদশে যখন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকা ছিলেন। তবে আনচেলত্তি জানান, এই পছন্দটি দলের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করেই করা হয়েছিল।

সাংবাদিকদের আনচেলত্তি বলেন, ‘সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পেনাল্টি নেওয়ার জন্য নেইমার ছিলেন সেরা পছন্দ, এবং তারপর যথাক্রমে রাফিনহা, ইগর থিয়াগো ও ব্রুনো।’

‘তাই আমরা তাকেই বেছে নিয়েছিলাম কারণ আমাদের মনে হয়েছিল মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে তিনিই সেরা। গিমারেসের পর মার্টিনেলি ছিলেন।’

ব্রাজিলের নিয়মিত পেনাল্টি নেওয়া দুই খেলোয়াড়—নেইমার এবং রাফিনহা—কেউই এই ম্যাচের শুরুর একাদশে ছিলেন না। কোচিং স্টাফদের তথ্য অনুযায়ী, মাঠে উপস্থিত খেলোয়াড়দের মধ্যে গিমারেসই ছিলেন পেনাল্টি নেওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

ব্রাজিল ম্যাচের বেশিরভাগ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও নরওয়ের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ কষ্ট করতে হয়েছিল। আনচেলত্তি ব্যাখ্যা করেন যে, তার দল জেনেশুনেই অতিরিক্ত খেলোয়াড়কে আক্রমণে পাঠিয়ে ঝুঁকি নিতে চায়নি।

তিনি বলেন, ‘শুরুর দিকে আমার কাছে মনে হয়েছিল আমরা একটি গোছানো দল হিসেবে খেলছি এবং সুযোগ তৈরি করছি।’

‘নরওয়ে তাদের রক্ষণভাগ পুরোপুরি আটকে রাখায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা কঠিন ছিল। খুব বেশি চাপ দিতে যাওয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।’

দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধের ‘কুলিং ব্রেক’-এর সময় নেইমারকে মাঠে নামানো হয়। তিনি ব্রাজিলের আক্রমণে গতি ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে নরওয়ে শুরুর দিকের চাপ সামলে নিয়েছে এবং ম্যাচের শেষের দিকে আর্লিং হালান্ড দুইবার গোল করে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে দেন।

নেইমার ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেও, তা সান্ত্বনা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

এই হতাশাজনক বিদায় সত্ত্বেও, আনচেলত্তি একা গিমারেসকে দোষ দিতে বা পেনাল্টি মিসের বিষয়টি নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি হননি।

এর বদলে, এই ইতালিয়ান কোচ স্বীকার করেছেন যে ব্রাজিলকে আরও উন্নতি করতে হবে, বিশেষ করে মাঝমাঠে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু তরুণ প্রতিভার প্রয়োজন, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ভালো মানের খেলোয়াড়দের আসা দরকার।’

‘আমার মনে হয় আমরা একটা নিরেট কাজ করেছি, কিন্তু ফুটবল এমনই, খেলাধুলা এমনই। মাঝেমধ্যে আপনাকে পরাজয়ের স্বাদও নিতে হবে।’

Related Articles

Latest Posts