ভারতে আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সামলানোর বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুপারিশে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
একইসঙ্গে বিদায়ী শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া প্রহ্লাদ যোশী দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের একজন জ্যেষ্ঠ বিজেপি নেতা।
৬৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ বিজেপির একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০৪ সাল থেকে লোকসভায় ধারওয়াদ আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদির অত্যন্ত আস্থাভাজন এই নেতা এর আগে সংসদীয় বিষয় এবং কয়লা ও খনি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় সামলেছেন।
বর্তমানে তিনি ভোক্তা অধিকার, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয় এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য শক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৬২ সালের ২৭ নভেম্বর কর্ণাটকের বিজাপুরে এক ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণ পরিবারে প্রহ্লাদ যোশীর জন্ম। অল্প বয়সেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘে (আরএসএস) যোগ দেন তিনি।
পরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৬ সালে কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তার সংসদীয় রাজনীতিতে অভিষেক ঘটে।
২০০৪ সালে ধারওয়াদ আসন থেকে প্রথমবারের মতো লোকসভা সদস্য নির্বাচিত হন যোশী। এ রপর থেকে ২০০৯, ২০১৪, ২০১৯ এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে টানা জয়ের মাধ্যমে তিনি এই আসনটি নিজের দখলে রেখেছেন।
কয়েক সপ্তাহের টানা ছাত্র আন্দোলনের মুখে চরম চাপে থাকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ যোশীর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
তার বর্তমান প্রধান কাজ হবে ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং এই সংকটময় সময়ে মন্ত্রণালয়কে সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া।
শিক্ষা সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতৃত্বে বিক্ষোভে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির যন্তর মন্তর ছিল উত্তাল।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এই বিক্ষোভ দিল্লি ও কলকাতা ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে।
মোদি সরকার আন্দোলনকারীদের ঘরে ফেরার আহ্বান জানালেও সিজেপি ও বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিতে অনড় থাকেন।
এর আগে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোও মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল। তীব্র আন্দোলনের মুখে অবশেষে গতকাল শনিবার পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

