মরক্কোর হয়ে একমাত্র গোল করেছেন ইসমাইল সাইবারি। নিজের সহজাত ঝলক দেখিয়ে প্রায় একক নৈপুণ্যে দারুণ গোল করে ম্যাচসেরা হয়েছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ শেষে এরা কেউ নন, বরং সমস্ত আলোচনা কেড়ে নিয়েছেন আরেকজন। মরক্কোর ১৮ বছর বয়সী ‘ওয়ান্ডার বয়’ আইয়ুব বুয়াদ্দি।
আজকের আগে বুয়াদ্দিকে খুব কম ফুটবলপ্রেমীই হয়তো চিনতেন। কিন্তু কাসেমিরো-ব্রুনো গিমারেস-লুকাস পাকেতাকে নিয়ে গড়া মিডফিল্ডও যার কাছে ম্লান হয়ে গেছে, সেই বুয়াদ্দি এখন নিশ্চিতভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের নজরে পড়বেন। কিন্তু কে এই বুয়াদ্দি?
ফ্রেঞ্চ লিগ সম্পর্কে যারা নিয়মিত খোঁজ রাখেন, তারা বুয়াদ্দির প্রতিভা সম্পর্কে আগেই জানতেন। জাতীয় দলে মরক্কোর প্রতিনিধিত্ব করলেও বুয়াদ্দির উত্থান ফ্রান্সে। ফ্রেঞ্চ ক্লাব লিঁলে খেলেন এই তরুণ। ২০২৩ সালের অক্টোবরে মাত্র ১৬ বছর ৩ দিন বয়সে লিঁলের হয়ে ক্লাব ফুটবলে অভিষেক হয় বুয়াদ্দির। ফ্রেঞ্চ লীগে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেকের রেকর্ড এটিই।
বয়সে কম হলেও অভিজ্ঞতার ঝুলি এরই মধ্যে বেশ ভারি বুয়াদ্দির। নিজের ১৭তম জন্মদিনে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ম্যাচ খেলেছেন এই তরুণ। সেই ম্যাচ লিঁলে জিতেছিল ১-০ গোলে। বড় মঞ্চে চাপ সামলে নজরকাড়া ফুটবল খেলা তাই বুয়াদ্দির জন্য নতুন কিছু নয়।
জাতীয় দল হিসেবে মরক্কোকে বেছে নেওয়ার আগে ফ্রেঞ্চ ফুটবলের অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ ফুটবলার মানা হতো বুয়াদ্দিকে। ফ্রান্সের অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়কত্বও করেছেন এক সময়। ফ্রান্স অনেক চেষ্টা করেছে বুয়াদ্দির গায়ে নীল জার্সি চড়ানোর জন্য। তবে মরক্কোও ছিল নাছোড়বান্দা। কারণ বুয়াদ্দির বাবা মরোক্কান। শেষ পর্যন্ত এক মাস আগে ফিফা বুয়াদ্দিকে অনুমতি দেয় মরক্কোর হয়ে খেলার। এরপর তাকে নিয়েই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নরা।
ব্রাজিলের বিপক্ষে বুয়াদ্দি এতটাই দুর্দান্ত খেলেছেন, লিভারপুল কিংবদন্তি স্টিভেন জেরার্ড এরই মধ্যে ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বুয়াদ্দিকে অলরেডদের জার্সিতে দেখার। লিভারপুলকে অনুরোধও করেছেন এই তরুণের উপর যেন নজর রাখা হয় এবং বিশ্বকাপের পরে তাকে দলে নেয়া হয়। এর আগে খবর বের হয়েছিল, প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালও সামনের গ্রীষ্মে এই তরুণকে দলে নিতে চায়।
মাঠের মতো মাঠের বাইরেও বুয়াদ্দি এক বিস্ময়কর প্রতিভা। ক্লাব ও জাতীয় দলে খেলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। ২০২৩ সালে ফ্রান্সের ফুটবল একাডেমিতে বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের মধ্যে ‘পাবলিক স্পিকিং’য়ে সেরা হওয়ার পুরষ্কারও পান তিনি।
২০১৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১০ বছর বয়সী বুয়াদ্দি রাশিয়া গিয়েছিলেন মরক্কোকে সমর্থন জানানোর জন্য। আট বছর পর সেই বুয়াদ্দিই এখন মরক্কোর সবচেয়ে আলোচিত তরুণ ফুটবলার। মরক্কো সমর্থকেরা নিশ্চয়ই চাইবেন প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স পুরো টুর্নামেন্টেই অব্যাহত রাখুন তিনি।

