বিদেশিরা না দিলে ভ্যাকসিন দিতে পারব না, উৎপাদন সক্ষমতা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অপুষ্টিজনিত জটিলতায় হামে আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি ও পর্যাপ্ত ব্রেস্ট ফিডিং না হওয়ায় (বুকের দুধ না খাওয়ানো) তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত ‘হাম ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম ও বৈজ্ঞানিক’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

হামে আক্রান্ত শিশুদের বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি এই হামকে সামনে নিয়ে অনেকগুলো হাসপাতাল ঘুরেছি, মিজেলসে আক্রান্ত বাচ্চাদের দেখতে গিয়েছি। ইমিউনিটির (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) কথা বলেছেন ডা. আতিয়ার রহমান। ৬-৯ মাস পর্যন্ত মায়ের ব্রেস্ট ফিডিং থেকে যে ইমিউনিটি পায়, সেটা দিয়ে চলার কথা। তাহলে এখন ৬-৯ মাস বয়সী এত বাচ্চার কেন হাম হচ্ছে? আমার অভিজ্ঞতা ও আলোচনায় যেটা পেয়েছি, সেটা হলো নিউট্রিশনের (পুষ্টি) অভাব। পুষ্টির অভাবে হামে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগী নিউমোনিয়ায় চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রথম সন্তান জন্ম নেওয়ার পর যদি সে মায়ের কাছ থেকে পুষ্টি না পায়, তাহলে নানা ধরনের রোগ আসবে। আমরা যদি এখন থেকেই সজাগ না হই, তাহলে একের পর এক রোগ আমাদের জর্জরিত করবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, মায়েদের পুষ্টির ব্যাপারে, বাচ্চাদের ব্রেস্ট ফিডিংয়ের ব্যাপারে সমাজকে সচেতন করতে হবে। সমন্বিত প্রচার হলে দেশের মানুষ সজাগ হবে। আইসোলেশন বাড়বে, মায়েরা বাচ্চাদের প্রোটিন দেবে। তাহলে আমরা এই রোগের আক্রমণ থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারব।

সেমিনারে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে শুধু হামের টিকাই নয়, শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর নিয়মিত ক্যাম্পেইনও হয়নি।

মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক বছর দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন করার কথা। গত বছরের প্রথমার্ধে একটি ক্যাম্পেইন হয়েছিল। এরপর আর কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও নেই। সামান্য কিছু ভিটামিন ‘এ’ আমাদের কাছে আছে, যেটা কিছু কিছু করে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ একেবারেই অপ্রতুল।’

তিনি জানান, সরকার অর্থ ছাড় করেছে এবং আগামী ১০ জুনের মধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে আমরা ১ কোটির বেশি ভিটামিন ‘এ’ পেতে যাচ্ছি। তখন পুরোদমে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো শুরু করা হবে।

দেশে ভ্যাকসিন উৎপাদনে সক্ষমতার অভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, আজ বিদেশিরা ভ্যাকসিন না দিলে আমরা দিতে পারব না। আমাদের সেই সক্ষমতা এখনো হয়নি।

তবে মুন্সীগঞ্জে ভ্যাকসিন উৎপাদন ইউনিট স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বলেন, কয়েক বছরের মধ্যেই দেশে সব ধরনের ভ্যাকসিন উৎপাদন সম্ভব হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু মশক নির্মূলে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে সেমিনারে সংসদ সদস্য আবদুস সালাম, ড্যাবের মহাসচিব জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনটির নেতারা বক্তব্য দেন।

Related Articles

Latest Posts