বার্নহ্যামের জয় স্টারমারের জন্য অশনী সংকেত?

দিনকাল ভালো যাচ্ছে না যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের। ক্ষমতায় বসার প্রায় দুই বছরের মাথায় নানা কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে দল ও দেশের নেতৃত্ব হারাতে বসেছেন লেবার পার্টির এই নেতা—এমনই পূর্বাভাষ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। 

তাদের এই পূর্বাভাসে ইন্ধন যোগাচ্ছেন দলের এক অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। 

আজ শুক্রবার লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্যপদ অর্জন করেছেন। এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে। 

সদস্যপদ অর্জনের ফলে দলের নেতা স্টারমারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারেন বার্নহ্যাম। 

সাবেক সরকারী মন্ত্রী বার্নহ্যাম ২০১৭ সাল থেকে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র পদে আছেন। 

যুক্তরাজ্যের উত্তর-পশ্চিমের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি দল রিফর্ম পার্টির প্রার্থীকে খুব সহজেই পরাজিত করেন বার্নহ্যাম। 

লেবার পার্টির মধ্য-বামপন্থি নেতা বার্নহ্যাম (৬৫) ইতোমধ্যে স্টারমারকে সরিয়ে দলের নেতা হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। বলাই বাহুল্য, দলের নেতৃত্ব হারালে প্রধানমন্ত্রীত্বও হারাবেন স্টারমার। 

বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীত্ব অর্জনের পথে প্রথম মাইলফলকটি পার করলেন বার্নহ্যাম। 

স্টারমারকে যদি শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতেই হয়, সে ক্ষেত্রে বার্নহ্যাম হবেন গত ১০ বছরে যুক্তরাজ্যের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী। 

৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে রিফর্ম পার্টির রবার্ট কেনইয়নকে পরাজিত করার পর ভক্ত-সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে বার্নহ্যাম বলেন, ‘আমি নিজ দলকে বলছি। এটাই পরিবর্তন আনার শেষ সুযোগ।’

তিনি মত দেন, তার এই জয় দেশের ভবিষ্যতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। 

‘আমাদেরকে এবার সব কিছু নিয়ে ঠিকমতো আগাতে হবে’, যোগ করেন তিনি। 

গত মাসে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের স্থানীয় নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ে স্টারমারের দল। সে সময় থেকেই দলে তার অবস্থান ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। 

পাশাপাশি, বেশ কিছু নীতি রাতারাতি বদলে ফেলা ও কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের সাবেক সহযোগী পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন স্টারমার। 

ইতোমধ্যে লেবার পার্টির বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা স্টারমারকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে এবং তার মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যও পদত্যাগ করেছেন। সবমিলিয়ে, লেজেগোবরে অবস্থায় আছে লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব। 

অপর দিকে, একটি সাম্প্রতিক জাতীয় জরিপ বলছে, ২০২৯ সালের পরবর্তী নির্বাচনে রিফর্ম পার্টি জয়ী হতে চলেছে। 

এত কিছুর পরও সাবেক আইনজীবী স্টারমার (৬৩) পদত্যাগ করতে রাজি হননি। 

২৩ মাস আগে কনজারভেটিভ পার্টির বিরুদ্ধে নিরঙ্কুশ বিজয় তাকে পাঁচ বছর দেশ শাসনের এখতিয়ার এনে দিয়েছে—যা থেকে তিনি স্বেচ্ছায় সরে যেতে আগ্রহী নন। 

এই গোলযোগের মধ্যে মেকারফিল্ডের পার্লামেন্ট সদস্য ও লেবার পার্টির নেতা জশ সাইমন্স তার আসনটি ছেড়ে দেন। যার ফলে, অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সামনে স্টারমারকে সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। 

ওই খালি হওয়া আসনের উপনির্বাচনে জিতে সে পথে এগিয়েছেন বার্নহ্যাম। 

এই নজিরবিহীন ঘটনায় ৭৭ হাজার মানুষের ‘অখ্যাত’ মেকারফিল্ড হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছে। বলা হচ্ছে, মেকারফিল্ডের ছোট জনগোষ্ঠীই বদলে দিতে পারে স্টারমারের ভাগ্য।  

জরিপ বলছে, লেবার পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ এখন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। স্টারমারের বিরুদ্ধে ভোটে নামলে খুব সহজেই জিতে যাবেন তিনি। 
স্টারমার নেতৃত্বও ধরে রাখতে তার অঙ্গীকারের কথা জানিয়েছেন। 

তবে বার্নহ্যামের এই জয় ঘটনাপ্রবাহ বদলে দিয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ভোটে হারার’ লজ্জায় না যেয়ে স্টারমারকে চুপচাপ পদত্যাগ করার পরামর্শ দেবেন লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতারা। 

স্টারমারের মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরাও একে একে পদত্যাগ করতে শুরু করলে এই পথে যাওয়া ছাড়া তার সামনে আরও কোনো পথ খোলা থাকবে না। 

মেকারফিল্ডের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণার আগেই দলের সাবেক মন্ত্রী লুইস হাই বিবিসিকে বলেন, ‘স্টারমারের উচিৎ সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় ক্ষমতার হস্তান্তরের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া।’

এর আগে ২০০১ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত লেবার পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন বার্নহ্যাম।

Related Articles

Latest Posts