চলতি সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নেপাল পুনর্গঠনে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী ড. স্বর্ণিম ওয়াগলে।
এই অর্থ দেশটির মোট অর্থনীতির প্রায় ১০ ভাগের একভাগের সমান।
আজ শনিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন নেপালের অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াগলে।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার লাগতে পারে। এটি কেবল একটি আনুমানিক হিসাব।’
২০১৫ সালে ভূমিকম্পের পর যত অর্থ প্রয়োজন হয়েছিল, এবার তার চেয়ে কম অর্থ লাগবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসানের পরিমাণ হিসাব করা হচ্ছে।’
বুধবার হিমালয় পর্বতশ্রেণিতে একটি হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ পাথর, বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত তীব্র গতিতে নেপালের বিভিন্ন নদী দিয়ে ভাটির দিকে নেমে আসে।
নেপাল-তিব্বতে সীমান্তে ঘটে যাওয়া এ বন্যা-ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৬৩৩ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজারের বেশি।
বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন শহর ও জনপদ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে অনেক সেতু ও সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রও।
🇳🇵 🇨🇳 On the ground after Nepal’s devastating floods
More than 2,400 people are missing after a devastating, tsunami-like wall of water gouged a path through the border region between Nepal and Tibet, sweeping away entire villages.
AFP teams have rushed to some of the… pic.twitter.com/DaEpgYoFpP
— AFP News Agency (@AFP) August 29, 2026
অন্যদিকে, ২০১৫ সালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটিতে প্রায় ৯ হাজার মানুষ মারা যায় এবং ধ্বংস হয় ৫ লাখের বেশি বাড়িঘর। এ ভূমিকম্পে দেশটির অর্থনীতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সমপরিমাণ ক্ষতি হয়েছিল। নেপাল পুনর্গঠনে ব্যয় হয়ে ছিল ৯০০ কোটি ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষয়ক্ষতি নেপালের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রয়টার্স আরও জানায়, প্রবাসী আয় ও পর্যটনের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল নেপালের অর্থনীতি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি। ফলে অবকাঠামো পুনর্গঠনের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার ক্ষতিও নেপালের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
A massive flash flood in the Himalayan nation of Nepal washed away villages while damaging roads, bridges and power projects in a region bordering Tibet, authorities said, as they warned against the risk of casualties https://t.co/3jDApYqJ16 pic.twitter.com/bO4FJaSneo
— Reuters (@Reuters) August 26, 2026
তবে ভূমিকম্পের তুলনায় এবার বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেন কম অর্থ প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি দেশটির অর্থমন্ত্রী।

