বন্দরে পড়ে থাকা ৯ হাজার কোটি টাকার পণ্য নিলামে তুলবে চট্টগ্রাম কাস্টমস

চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত পণ্যের কনটেইনার সরিয়ে বন্দরের জায়গা খালি করতে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই ধাপে ৪৪২ কনটেইনারের পণ্য নিলামে তুলতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টন আমদানি পণ্য বছরের পর বছর ধরে বন্দরে পড়ে আছে। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ১৮ শতাংশ জায়গা দখল করে রেখেছে এ পণ্যগুলো।

২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আমদানি করা এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, কাপড়, সুতা, প্লাস্টিক বর্জ্য, টাইলস, লবণ, কাগজ, গৃহস্থালি সামগ্রী। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় বন্দরের জায়গা আটকে থাকার পাশাপাশি সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং শিপিং এজেন্টরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, বাজারে পণ্যের দাম কমে গেলে, মূল কাগজপত্র বা ছাড়পত্র না থাকলে কিংবা আমদানিতে অনিয়মের কারণে আরোপিত জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অনেক আমদানিকারক তাদের পণ্য ফেলে রাখেন।

পরিত্যক্ত পণ্যের জট কমাতে চট্টগ্রাম কাস্টমস ২১০টি লটে বিভক্ত ৪৪২টি কনটেইনার দুই বারে ই-নিলামের আয়োজন করেছে। এর মাধ্যমে বন্দরের কনটেইনার জট কমানো, কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানো ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষ ই-নিলামের আওতায় ১০১টি লটের ২৯০টি কনটেইনার প্রথমে নিলামে তোলা হবে। এসব চালানে রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক বর্জ্য, চেস্ট ফ্রিজার, পাইপ, সুতা, কাপড়, সৌর মডিউল, লবণ, কাগজ ও টাইলসসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। এর সঙ্গে ৮৬টি পুরোনো খালি কনটেইনারও রয়েছে। এসব পণ্যের জন্য কোনো সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি।

অন্য একটি ই-নিলামের আওতায় ১০৯টি লটের বাকি ১৫২টি কনটেইনারগুলো নিলামে তোলা হবে। এসব চালানের মধ্যে রয়েছে মূলধনি যন্ত্রপাতি, কাপড়, পিভিসি ফ্লেক্স ব্যানার, রাসায়নিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের যন্ত্রাংশ, টাইলস, স্টেইনলেস স্টিলের কয়েল, স্ক্যানার, ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট, লিফট ও লবণ।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পুরো নিলাম প্রক্রিয়া কাস্টমসের ই-নিলাম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ডিজিটালভাবে পরিচালিত হবে।

নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী দরদাতাদের প্রস্তাবিত দরমূল্যের কমপক্ষে ১০ শতাংশ সমপরিমাণ জামানতের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

বন্দর ও কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, নিলাম প্রক্রিয়ায় দেরির কারণে অনেক পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এতে আরও আর্থিক ক্ষতি ও মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় হয়েছে। পরিত্যক্ত পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নিলাম বিধিমালায় সংশোধনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আশা করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতা বাড়বে, কনটেইনার জট কমবে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।

Related Articles

Latest Posts