সাদা বলের মোহ ছাপিয়ে লাল বলের প্রেম, শরিফুলের বদলে মুগ্ধ হাবিবুল

তিন বছর আগের শরিফুল ইসলাম আর আজকের শরিফুলের মধ্যে ব্যবধানটা আকাশ-পাতাল। ২০২১ কিংবা ২০২২ সালের কথা—জাতীয় দলের তরুণ এই বাঁহাতি পেসার তখন সাদা বলের ক্রিকেটে যতটা স্বচ্ছন্দ ছিলেন, লাল বলের আভিজাত্য যেন তাকে ততটা টানত না। তবে সময়ের পরিক্রমায় বদলে গেছে সমীকরণ। রঙিন পোশাকের মোহ কাটিয়ে শরিফুল এখন লাল বলের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়া সফরে চোটের কারণে ডারউইনে প্রথম টেস্টে খেলা হয়নি শরিফুলের। সেই টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পেয়ে যায় বাংলাদেশ।  ম্যাকাইতে একাদশে শরিফুল ছিলেন দুর্দান্ত। দলের বাজে পরিস্থিতির মাঝে তিনি ছিলেন উজ্জ্বল। রেকর্ড গড়ে ৪৬ রানে নেন ৭ উইকেট। যদিও ম্যাচটি দুই দিনে ইনিংস ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারীরা।

তবু শরিফুলের ঝলকের রেশ ম্লান হয়নি। সিরিজ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তরুণ এই পেসারের দুর্দান্ত মানসিক পরিবর্তন ও টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি তার এই গভীর অনুরাগের গল্প শোনালেন জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন।

শরিফুলের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের মানসিকতা স্মরণ করে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘৩ বছর পিছনের কথা যদি বলি—২০২১-২২ সালের দিকে যখন শরিফুল ভালো করছিল, তখনও সে রেড বল ক্রিকেট নিয়ে অতটা উৎসাহ দেখাত না। তখন হোয়াইট বল ক্রিকেটের প্রতিই তার আগ্রহটা বেশি ছিল। কিন্তু গত এক বছর ধরে দেখছি শরিফুল লাল বলের খেলাটাতেও প্রচুর আগ্রহ দেখাচ্ছে। এখানে সে সত্যি ভালো করতে চায়।’

সীমিত ওভারের ঝকঝকে রোশনাই ছেড়ে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়াটাই শরিফুলকে বিশ্বমানের বোলার হওয়ার পথ দেখাচ্ছে বলে মনে করেন প্রধান নির্বাচক, ‘একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার হিসেবে নিজের নাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে লাল বলের ক্রিকেটের কোনো বিকল্প নেই। শরিফুল সেই সত্যটা উপলব্ধি করতে পেরেছে এবং নিজেকে সেভাবে গড়ে তুলছে—এটা দেখাটা আমাদের জন্য দারুণ এক স্বস্তির বিষয়।’

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দারুণ মুহুর্ত উপহাত দেয়া বাঁহাতি পেসারের আলাদা এক ডেলিভারি নিয়েও কথা বলেন হাবিবুল।

প্রধান নির্বাচকের ভাষায়, ‘ম্যাকাই টেস্টে অসাধারণ কিছু ডেলিভারি ছিল। তবে শরিফুল যেভাবে ক্যামেরন গ্রিনকে আউট করেছে, আমার মতে সেটাই ছিল এই পুরো টেস্ট ম্যাচের সেরা বল। ও অত্যন্ত এনার্জেটিক এবং চমৎকারভাবে বল সুইং করাতে জানে।’

ম্যাচের আগে শরিফুলের সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত এক আলাপের কথা প্রকাশ করে বাশার বলেন, ‘ম্যাচের আগে ও আমাকে বলেছিল—’স্যার, আমি তো টেস্ট ক্রিকেটে কখনো ৫ উইকেট পাইনি। এই মাইলফলকটা ছোঁয়ার খুব ইচ্ছা।’ ও ৫ উইকেট পাওয়ার জন্য ভীষণ উদগ্রীব ছিল।’

প্রধান নির্বাচক মনে করেন, শরিফুলের টেস্ট ক্রিকেটে এই নিবেদনের মূল কারণ—দলের পেস আক্রমণের স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা। চারজন তরুণ পেসারের কে কার চেয়ে সেরা পারফর্ম করবেন—এই মানসিকতাই আজ বাংলাদেশ পেস বোলিংকে বিশ্বমঞ্চে নতুন এক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
 

Related Articles

Latest Posts