ফিরিয়ে আনতে হবে সেই ক্ষুধা

সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে বাংলাদেশের ৩-০ ব্যবধানে মনোবল ভেঙে দেওয়া পরাজয়ের পর শিরোপাধারীদের কী ভুল হয়েছিল, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দলের ভেতরে বিভক্তির অভিযোগ, বাইরের প্রভাব কিংবা খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন, হারের পর একের পর এক তত্ত্ব সামনে এসেছে।

তবে সব জল্পনা-কল্পনার আড়ালে আরও অস্বস্তিকর একটি সত্য লুকিয়ে আছে: এত বড় একটি ম্যাচে যে ক্ষুধা, তীব্রতা ও জয়ের জন্য মরিয়া মানসিকতা দেখানোর কথা ছিল, বাংলাদেশ তা দেখাতে পারেনি।

মাত্র দুই মাস আগের দলের পারফরম্যান্স বিবেচনায় এই হার আরও বিস্ময়কর। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি নারী এশিয়ান কাপে এশিয়ার পরাশক্তি চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল খেলে বাংলাদেশ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।

কিন্তু গোয়ায় সেই একই দলকে নিজের ছায়া বলেই মনে হয়েছে। টুর্নামেন্টের আগে থাইল্যান্ডে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প এবং দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়ার পরও বাংলাদেশ একটি সমন্বিত দল হিসেবে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছে।

ভারত তাদের নিয়মিত অধিনায়কসহ ছয়জন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখেও খেলেছিল। তারপরও ম্যাচের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই শিরোপাধারী বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল।

ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়াও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রধান কোচ পিটার বাটলার কয়েকজন খেলোয়াড়ের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, পরাজয়ে মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন খেলোয়াড়কে গভীরভাবে ভেঙে পড়তে দেখা গেছে, আর ড্রেসিংরুমে দু-একজনকে কাঁদতেও দেখা গেছে।

সবচেয়ে বড় সমস্যা শারীরিকের চেয়ে মানসিক বলেই মনে হচ্ছে। সাম্প্রতিক সাফল্যের সময়ে যে আত্মবিশ্বাস, আগ্রাসন এবং দলগত চেতনা বাংলাদেশের পরিচয়ে পরিণত হয়েছিল, ভারতের বিপক্ষে সেই সবকিছুরই ঘাটতি স্পষ্ট ছিল।

এখন নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনাল বাংলাদেশের সামনে একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ হয়ে এসেছে। জানা গেছে, দলের আত্মবিশ্বাস ও ঐক্য ফিরিয়ে আনতে বাটলার প্রতিটি খেলোয়াড়ের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছেন। কৌশলগত কোনো পরিবর্তনের চেয়েও সেটি হয়তো বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে কোচকে দল নির্বাচন নিয়েও নতুন করে ভাবতে হতে পারে। আফঈদা খন্দকার, শিউলি আজিম, চোটে থাকা ডিফেন্ডার নাবিরান খাতুন এবং মিডফিল্ডার উমেহলা মারমার মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি ভারতের বিপক্ষে স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে। বাংলাদেশের মিডফিল্ডে নিয়ন্ত্রণের অভাব ছিল, আর চাপে পড়লে রক্ষণভাগকেও নড়বড়ে দেখিয়েছে।

শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে বাংলাদেশকে দ্রুত সেই পরিচয় ফিরে পেতে হবে, যা এশিয়ার সেরাদের বিপক্ষে তাদের প্রশংসিত করেছিল। কৌশল বা প্রস্তুতির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে তাদের মানসিকতা, দলগত ঐক্য এবং লড়াইয়ের স্পৃহা। নেপালের বিপক্ষে তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে।
 

Related Articles

Latest Posts