ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আজ সোমবার রাশিয়া এসে পৌঁছিয়েছেন। সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন।
অপরদিকে, তেহরান-ওয়াশিংটনের শান্তি আলোচনা দোদুল্যমান অবস্থায় রয়েছে। পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ইতোমধ্যে ভেস্তে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ঘনিষ্ঠ মিত্র মস্কোর শরণাপন্ন হয়েছে তেহরান।
আজ সোমবার বার্তাসংস্থা এএফপি ও রুশ রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম তাস এই তথ্য জানিয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও ইরানের পাশে এসে দাঁড়ায়নি রাশিয়া। দায়সারা নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোতেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কার্যক্রম।
তা সত্ত্বেও, দুই দেশের অংশীদারিত্ব টিকে আছে এখনো। মূলত ইরানের কাছ থেকে স্বল্প দামে কেনা ড্রোন দিয়েই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পুতিন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় জানায়, আব্বাস আরাঘচি সেইন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন। বৈঠকের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না থাকলেও ধারণা করা যাচ্ছে, আজই হতে পারে সেই বৈঠক।
রাশিয়া পৌঁছে আরাঘচি জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সব সময়ই তেহরান ও মস্কোর মধ্যে শলাপরামর্শ অব্যাহত থাকে।
নিজের আনুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে পোস্ট করে আরাঘচি বলেন, ‘আপনাদের জানা প্রয়োজন, আমরা সব সময়ই রাশিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শলাপরামর্শ করে থাকি। আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও অব্যাহত রাখি।’
তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাকে ‘ফলপ্রসূ’ আখ্যা দেন।
বেশ ‘ঘোরাফেরার’ মধ্যেই আছেন আরাঘচি। শুরুতে পাকিস্তানের রাজধানীতে আসেন তিনি। তবে মার্কিন প্রতিনিধিদের দেখা পাননি সেখানে। এরপর গেলেন ওমানে। সেখান থেকে আবার ফিরলেন ইসলামাবাদে। এ সবই তেহরান-ওয়াশিংটনের নিভু নিভু শান্তি আলোচনার আগুনকে জিইয়ে রাখার প্রচেষ্টার অংশ।
মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরাই আরাঘচিকে ব্যস্ত রাখছেন।
গত শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সফর বাতিল করেন ট্রাম্প নিজেই।
তবে আলোচনার উদ্যোগ থেমে নেই।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে বার্তা পাঠিয়েছে তেহরান। সেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ আছে। এসব বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান। এর মধ্যে আছে পরমাণু ও হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত ব্যাপার স্যাপার।
ফার্সের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, এই বার্তাগুলো আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ নয়।
অপরদিকে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুদ্ধের অবসান নিয়ে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। ওই প্রস্তাবে পরমাণু আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর তিনি ওমানে যেয়ে আবারও ইসলামাবাদে ফেরেন।
পরবর্তীতে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
রাশিয়া ও ইরানের সরকারি গণমাধ্যমে পুতিনের সঙ্গে আরাঘচির আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আরাঘচি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করা নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
ওমানের বৈঠক নিয়ে তিনি জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিভিন্ন দেশের জাহাজের নিরাপদে চলাচলের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল আমাদের প্রিয় প্রতিবেশী দেশগুলো এবং, সার্বিকভাবে বিশ্ববাসীর উপকার করা।’
‘প্রতিবেশীদের আমরা প্রাধান্য দিচ্ছি’, যোগ করেন তিনি।
অপরদিকে, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ খুলে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।
আনুষ্ঠানিক টেলিগ্রাম চ্যানেলে রক্ষীবাহিনী জানায়, ‘ইরানের সুনির্দিষ্ট কৌশল হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও এই অঞ্চলে হোয়াইট হাউসের সমর্থকদের দূরে রাখা।’
অপরদিকে, পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

