ভারতের পার্লামেন্টে সম্প্রতি দেখা গেছে এক নজিরবিহীন দৃশ্য। কয়েক দশক ধরে চলে আসা পার্লামেন্টের ভাষার গাম্ভীর্যের মধ্যে হঠাৎ ঢুকে পড়েছে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতিতে জনপ্রিয় কিছু ‘জেন-জি’ কোড-ওয়ার্ড।
‘ডেলুলু’ (বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন), ‘ফোমো’ (কিছু থেকে পিছিয়ে পড়ার ভয়) কিংবা ‘ক্লকড ইটের’ (সঠিক সময়ে কোনো বিষয় ধরে ফেলা) মতো শব্দগুলো এখন পার্লামেন্টেও উচ্চারিত হচ্ছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
সাধারণত ইনস্টাগ্রামের কমেন্ট সেকশন, মেসেঞ্জারের চ্যাট গ্রুপ কিংবা মিম পেজে এসব শব্দের ব্যবহার বেশি দেখা যায়। আর সেগুলোই এখন শোনা যাচ্ছে ভারতের আইনপ্রণেতাদের মুখে। বিশেষ করে দেশজুড়ে পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁস নিয়ে বিতর্কের সময় পার্লামেন্টে এসব ট্রেন্ডি শব্দের ব্যবহার ব্যাপকভাবে নজরে আসে।
কিন্তু পার্লামেন্টের এই দৃশ্যমান আধুনিকতার আড়ালে রয়েছে গভীর বৈপরীত্য। একদিকে পার্লামেন্ট কক্ষে তরুণদের ভাষা ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে রাজপথে নামা সেই তরুণদেরই মুখোমুখি হতে হয়েছে পুলিশি লাঠিচার্জ, ধরপাকড় ও আইনি মামলার।
একদিকে পার্লামেন্টে তরুণদের ভাষা ধার করে দেখানো হচ্ছে আধুনিকতা ও সহমর্মিতা, অন্যদিকে রাজপথে তাদের আন্দোলন দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে রাষ্ট্রের কঠোর শক্তি।
এই দুই বিপরীত ছবিই বর্তমান ভারতের রাজনীতিতে একটি গভীর কাঠামোগত সংকট সামনে এনেছে। তরুণ প্রজন্মের ভাষা রাজনীতিবিদদের জানা থাকলেও তাদের ক্ষোভ, দাবি ও বাস্তবতার সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের দূরত্ব রয়ে গেছে অনেকটাই।
পার্লামেন্টে জেন-জি ভাষার আকস্মিক ব্যবহারকে শুধু একটি আমুদে ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং সোশ্যাল মিডিয়ার উপযোগী রিল, শর্টস ও ক্লিপ তৈরির পিআর কৌশল।
শিবসেনার শ্রীকান্ত শিন্দে যখন বিরোধীদের পার্লামেন্টে অনুপস্থিত থাকার জন্য ‘এমআইএ’ বা ‘মিসিং ইন অ্যাকশন’ বলেন, কোনো ট্রেন্ড হাতছাড়া হওয়ার ভয় বোঝাতে ‘ফোমো’ শব্দ ব্যবহার করেন এবং তাদের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন বোঝাতে ‘ডেলুলু’ আখ্যা দেন, তখন শব্দগুলোর নির্বাচন যে সচেতনভাবেই করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
একইভাবে শাসক দল বিজেপির বাঁশুরি স্বরাজ যখন দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন এনে বিষয়টি একেবারে ‘ক্লকড ইট’ করেছেন, তখন জেন-জি ভাষা শুধু কথার অলংকারে সীমাবদ্ধ থাকে না, সেটি রাজনৈতিক বক্তব্য প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হয়ে ওঠে।
এমনকি বিরোধী নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে প্রথম দিকে পার্লামেন্টে জেন-জি ভাষার এই প্রবেশ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘আমরা কেন জেন-জিদের ভাষায় কথা বলছি?’ কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনিও প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করতে ‘ডেলুলু’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
ঘটনাটি দেখিয়ে দেয়, ইন্টারনেট সংস্কৃতির এই ভাষাগত প্রভাব কত দ্রুত মূলধারার রাজনীতিতেও জায়গা করে নিচ্ছে।
কিন্তু ভারতের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদরা হঠাৎ কেন এই ভাষার শরণাপন্ন হচ্ছেন?
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রাহুল ভার্মা বিবিসিকে বলেন, ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে রাজনীতিবিদরা বরাবরই সমসাময়িক পপ কালচার বা গণসংস্কৃতির সাহায্য নিয়েছেন। অতীতে ক্রিকেট, জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন কিংবা বলিউডের সিনেমা থেকে সংলাপ ধার করা হয়েছে। যেমন, ২০১৯ সালে ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ থেকে নেওয়া ‘হাও ইজ দ্য জোশ’ সংলাপটি পার্লামেন্ট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা—সবখানেই ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
বর্তমানে জেন-জি স্ল্যাং ব্যবহারের প্রবণতাও মূলত সেই রাজনৈতিক অভ্যাসেরই নতুন রূপ।
তবে ডিজিটাল নৃবিজ্ঞানী পায়েল আরোরার মতে, ইন্টারনেটের কোড-ওয়ার্ডের বিষয়টি সিনেমা বা ক্রিকেট থেকে আলাদা। কারণ এই ভাষা কোনো চিত্রনাট্যকার, তারকা বা স্পোর্টস হিরোর তৈরি নয়। কোটি কোটি তরুণের প্রতিদিনের অনলাইন যোগাযোগের মধ্য দিয়ে এসব শব্দ তৈরি হয়, বদলায় এবং খুব দ্রুত নতুন অর্থ ধারণ করে।
ফলে কোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা যখন শুধু এই শব্দগুলো ধার করেন, তখন তা বড়জোর তাদের ‘সাংস্কৃতিক সচেতনতা’ বা কালচারাল অ্যাওয়ারনেস প্রমাণ করতে পারে। কিন্তু সেটি কোনোভাবেই ‘রাজনৈতিক রূপান্তর’ বা নীতিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রমাণ নয়।
নেতারা যখন পার্লামেন্টে এসব শব্দ ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য রিল ও শর্টস বানিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তখন তরুণদের একাংশের কাছে তা ফাঁপা রাজনৈতিক প্যাকেজিং হিসেবেই ধরা পড়ে। পার্লামেন্টের বাইরে থাকা আন্দোলনকারী তরুণদের কাছে এই অনুকরণ ‘ক্রিঞ্জ’ অর্থাৎ অস্বস্তিকর, অপ্রস্তুতকর ও মেকি বলে মনে হয়।
তাদের বক্তব্যের সারকথা—তাদের ভাষা নকল করে তাদের প্রভাবিত করা যাবে না। প্রয়োজন বাস্তব জবাবদিহিতা ও কাঠামোগত পরিবর্তন।
পার্লামেন্টের চটকদার জেন-জি ভাষার সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি দেখা যায় রাজপথে।
ভারতের লাখ লাখ তরুণ ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, তীব্র বেকারত্ব এবং একের পর এক সরকারি নিয়োগ ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছেন। এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই ছড়িয়ে পড়ে ইন্টারনেটভিত্তিক এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত সক্রিয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির আন্দোলন।
মে মাসে শুরু হওয়া এই আন্দোলন শুধু মিম, পোস্ট কিংবা ইনস্টাগ্রাম রিলসে আটকে থাকেনি। দ্রুত তা রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে এবং লাখো শিক্ষার্থী ও তরুণকে আন্দোলনে নামাতে সক্ষম হয়। শেষ পর্যন্ত এই আন্দোলন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগও ত্বরান্বিত করে।
আন্দোলনের তীব্রতা নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ ২৫ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর গড়ে ওঠা তার অপরাজেয় ভাবমূর্তির ওপর বড় ধরনের আঘাত হানে।
পরিস্থিতির চাপে সরকারও কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়। আটক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করাসহ কিছু ছাড় দেওয়া হয়, পাশাপাশি আইনি সংস্কারের কথাও বলা হয়।
কিন্তু আন্দোলনের তীব্রতা কমতে শুরু করলে সরকারের আরেকটি রূপ সামনে আসে।
একদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদি জেন-জি তরুণদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির জন্য উল্লম্ব বা ভার্টিকাল সেলফি-স্টাইল ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
কিন্তু এসব ভিডিও তরুণদের একাংশের মধ্যে সহানুভূতির বদলে আরও বিদ্রূপ ও উপহাসের জন্ম দেয়। তাদের কাছে মনে হয়েছে, এটি সমস্যার সমাধানের চেয়ে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল বদলানোর চেষ্টা বেশি। তাদের জীবনের বাস্তব সংকটের সমাধান সেখানে নেই।
বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজপথের বাস্তবতা ছিল আরও কঠিন। আন্দোলনের চাপের মুখে সরকার তাৎক্ষণিক কিছু ছাড় দিলেও পরবর্তীতে আন্দোলন দমনে আইনি পথ বেছে নেয়। বহু শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে পুলিশের আইনি পদক্ষেপ এখনো বহাল রয়েছে।
গত ২০ জুলাই নতুন দিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার সময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জের মতো বলপ্রয়োগ করে। আটক করা হয় বহু শিক্ষার্থীকে।
যদিও সুপ্রিম কোর্ট ১৮ বছরের কম বয়সী এবং আগে কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকা শিক্ষার্থীদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে, তারপরও পুলিশের তদন্ত ও দমনমূলক পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আন্দোলন সংক্রান্ত কনটেন্ট সরিয়ে নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের চাপ এবং সক্রিয় কর্মীদের ওপর পুলিশের আইনি নজরদারিও পার্লামেন্টের জেন-জি ভাষার সঙ্গে রাজপথের বাস্তবতার ব্যবধানকে আরও স্পষ্ট করে।
আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়াও ছিল তীব্র। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যতের জন্য লড়ছে, ফুর্তি করার জন্য নয়। সরকার যদি কথা না শোনে, তবে আমরা আবার রাজপথে নামব।’
এএফপির প্রতিবেদনে এই দ্বিমুখী আচরণকে ‘কৃত্রিম সহানুভূতি’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া ও পার্লামেন্টের ভাষণে তরুণদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো হচ্ছে, তাদের ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে; কিন্তু সেই তরুণরাই বাস্তব দাবি নিয়ে সোচ্চার হলে তাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দমন-পীড়ন ও মামলার।
বর্তমান ভারতের তরুণ প্রজন্ম শুধু ডিজিটাল মাধ্যমে সক্রিয় নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম ও ডিজিটাল পরিসরের দ্রুত পরিবর্তন সম্পর্কেও তারা সচেতন।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জয়োজিৎ পাল এএফপিকে বলেন, বিজেপি অতীতে নিজেদের সাংগঠনিক নেটওয়ার্কের শক্তির ওপর জোর দিলেও ইনস্টাগ্রাম ও এক্সে অ্যালগরিদমিক পরিবর্তন এবং মিম সংস্কৃতির নতুন জোয়ার নিয়ন্ত্রণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে।
এর একটি বড় উদাহরণ সিজেপির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্থান। মে মাসে আত্মপ্রকাশ করা সিজেপির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার ২৬ মিলিয়নে পৌঁছেছে, যা বিজেপির অফিশিয়াল হ্যান্ডেলের ৯ দশমিক ৬ মিলিয়ন ফলোয়ারের দ্বিগুণেরও বেশি।
এই বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতায় তরুণরা শুধু রাজনীতিবিদদের মুখে নিজেদের ভাষা শুনতে চান না। তারা ব্যবস্থার ‘সোর্স-কোড ফিক্সিং’ চান—অর্থাৎ নীতিগত ও কাঠামোগত আমূল পরিবর্তন।
পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং চাকরির নিশ্চয়তা তাদের মৌলিক দাবির কেন্দ্রে রয়েছে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে পাস হওয়া নতুন বিলে অপরাধীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ মিলিয়ন ডলারের বেশি জরিমানার মতো কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হলেও রাজপথের শিক্ষার্থীদের শঙ্কা কাটেনি।
বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী পার্লামেন্টে বলেছেন, তরুণদের এই আন্দোলন কোনো ক্ষোভ বা ঘৃণার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের গভীর ও বাস্তব হতাশার প্রকাশ।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু তরুণদের কাছে এসব প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বড় দাবি হলো রাষ্ট্রযন্ত্রের মেকি আচরণ বন্ধ করা।
পার্লামেন্টে ‘ডেলুলু’, ‘ফোমো’ বা ‘ক্লকড ইট’ বললেই তরুণদের সঙ্গে রাজনীতির দূরত্ব ঘুচে যায় না। বিশেষ করে সেই তরুণরা যখন রাজপথে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়ছেন এবং একই সময়ে মামলা, আটক ও পুলিশি বলপ্রয়োগের মুখোমুখি হচ্ছেন।
HIGH POWERED TASK FORCE on examination reforms under the leadership of Shri Nandan Nilekani constituted.@NandanNilekani pic.twitter.com/mMpmPdIEL5
— Narendra Modi (@narendramodi) July 26, 2026
সরকার যখন নীতিগত ও স্থায়ী সমাধানের বদলে ‘প্যাকেজিং রাজনীতি’ বা বাহ্যিক চটকদার প্রচারণার মাধ্যমে সমস্যার মোকাবিলা করতে চায়, তখন তা তরুণদের মধ্যে হতাশা ও রাজনীতি-বিমুখতা আরও বাড়াতে পারে।
তরুণরা যদি মনে করেন, তাদের ভাষা শুধু তাদেরই প্রভাবিত করার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ তাদের বাস্তব দাবি উপেক্ষিত থাকছে, তাহলে সংকটটি আর শুধু পরীক্ষা, চাকরি বা প্রশ্নফাঁসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। রাষ্ট্র ও নতুন প্রজন্মের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
পার্লামেন্টে জেন-জি ভাষার ব্যবহার হয়তো কয়েক সেকেন্ডের ভাইরাল ক্লিপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু তরুণদের আস্থা অর্জনের জন্য শুধু তাদের ভাষায় কথা বলাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন তাদের সমস্যার ভাষা বোঝা এবং সেই অনুযায়ী নীতি ও ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা।
কারণ শেষ পর্যন্ত তরুণদের দাবি ভাষা বদলের নয়, ব্যবস্থার ‘সোর্স-কোড’ বদলের।

