নবম পে-স্কেল: আরও দুয়েকটি বৈঠকের পর চূড়ান্ত

বিভিন্ন সময়ে নবম পে-স্কেলের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতির কথা জানা গেলেও সচিব পর্যায়ে এর চূড়ান্তকরণের বৈঠক এখনো শেষ হয়নি। পে-স্কেল চূড়ান্ত করতে সচিব পর্যায়ে আরও দুয়েকটি বৈঠক হবে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের অন্তত দুটি দায়িত্বশীল সূত্র দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত করতে বেগ পেতে হচ্ছে। একদিকে বৈশ্বিক যুদ্ধজনিত অর্থনৈতিক মন্দা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির স্থবিরতার মধ্যে সরকারকে এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগোতে হচ্ছে, যা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের এক শীর্ষ নীতিনির্ধারক ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পে-স্কেলের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগির এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। তবে ঠিক কবে এটি চূড়ান্ত হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি।’

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বিচারক ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণত নির্বাহী বিভাগের কর্মীদের থেকে বেশি সুযোগ-সুবিধা পান। এবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সেই ব্যবধান কেমন হবে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছিল।

তবে সেটাও সমাধান হয়েছে বলে জানান তিনি।  

এদিকে পে-স্কেলের সর্বশেষ তথ্য জানতে সচিবালয়ের কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। বিভিন্নভাবে তারা সাংবাদিকদের কাছে তথ্য জানতে চাইছেন। তবে গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করছেন কেউ কেউ।

বিষয়টি নিয়ে কিছুটা বিরক্ত অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

গতকাল বুধবার গণমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘পে-স্কেল নিয়ে একেক গণমাধ্যম একেকভাবে সংবাদ প্রচার করছে। এই বিষয়ে আমি একবারেই কথা বলবো না।’

উল্লেখ্য, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ২৭ জুলাই সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পর গত ২১ জানুয়ারি তারা সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জাকির আহমেদ খান কমিশন।

এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts