পশুবাহী ট্রাকে বাড়ি ফিরছে নিম্ন আয়ের মানুষ

ঈদযাত্রায় পশুবাহী ট্রাক ও পিকআপে বাড়ি ফিরছে নিম্ন আয়ের মানুষ। পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার চাপে বাধ্য হয়ে এ অনিরাপদ যাত্রা বেছে নিচ্ছেন তারা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। টিকিট না পেয়ে অনেকেই ট্রাকে করে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

ঢাকা-রংপুর রুটে বাসের নির্ধারিত ভাড়া ৯১০ টাকা হলেও আজ যাত্রীদের কাছ থেকে ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে ঢাকা–রাজশাহী রুটে ভাড়া সাড়ে ৮০০ টাকা হলেও আজ ১ হাজার ২০০ টাকারও বেশি দামে বিক্রি করা হয়। ফলে পরিবহন সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার চাপ সামলাতে না পেরে ঢাকার বিভিন্ন হাটে আসা পশুবাহী ট্রাক ও পিকআপে করে বাড়ির পথে ফিরছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীরা ট্রাকে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, রংপুর ও কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার পথে রওনা হন। প্রতিটি ট্রাকে ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা।

 

মোহাম্মদপুরের একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন শাপলা বেগম (২৫)। দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আজ গার্মেন্টসে ছুটি হয়েছে। রাজশাহীর উদ্দেশে বাসের অপেক্ষায় আছি, কিন্তু কোনো বাসই পাচ্ছি না। দু-একটি পাওয়া গেলেও ভাড়া অনেক বেশি। তাই বাধ্য হয়েই ট্রাকে যেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাতে থাকা টাকায় বাসে গেলে কিছুই থাকবে না। তাই কষ্ট হলেও ট্রাকে করেই বাড়ি ফিরতে হবে।’

হেমায়েতপুরের একটি ট্যানারিতে হেলপারের কাজ করেন সাইদ মিয়া (২০)।

তিনি বলেন, ‘আমি নওগাঁ যাব। দুপুর ২টায় গাবতলী বাস টার্মিনালে আসছি। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত একটা টিকিটও পাইনি। কয়েকটা লোকাল বাসের সঙ্গেও কথা বলছি, তারা ১ হাজার ২০০ টাকার নিচে নিতে চায় না। অথচ আমি সাধারণত ৪০০–৬০০ টাকায় নওগাঁ যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে টাকা পেয়েছি, সব যদি বাসভাড়ায় চলে যায়, তাহলে ঈদ করবো কীভাবে।’

পরে তিনি ৪০০ টাকায় একটি ট্রাকে করেই নওগাঁর উদ্দেশে রওনা হন।

গাবতলী বাস টার্মিনালে শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের সুপারভাইজার আমিনুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, আজ যাত্রীর চাপ অনেক বেশি, কিন্তু আমাদের কোনো টিকিট নেই।

তিনি বলেন, অনেক কাউন্টারেই টিকিট শেষ। কিছু বিআরটিসি ও লোকাল বাস চলাচল করলেও তারা মূলত বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে এবং সেগুলোতে ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নামি বাস কোম্পানিগুলো সাধারণত নিয়মিত যাত্রী আনা–নেওয়া করে, তাই তারা তুলনামূলকভাবে নির্ধারিত ভাড়ায় চলে। কিন্তু লোকাল বাসগুলো যাত্রী কম থাকায় অনেক সময় খালি ফিরতে হয়, এ কারণে তারা বেশি ভাড়া নেয়।

 

 

 

Related Articles

Latest Posts