তুষারধসে নিহত পর্বতারোহী নির্মল পুরজার মরদেহ উদ্ধার

উত্তর পাকিস্তানে চলতি সপ্তাহে শক্তিশালী তুষারধসে নিহত খ্যাতিমান পর্বতারোহী নির্মল পুরজার মরদেহ উদ্ধারকারীরা খুঁজে পেয়েছেন।

ওই দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরও নয়জন নিহত হন।

আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তানের বরাত দিয়ে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ক্লাবটি জানায়, ‘ভূমিভিত্তিক উদ্ধারকারী দল ব্রড পিক পর্বতের প্রায় ৫ হাজার ৭০০ মিটার উচ্চতায় নিমস দাই (পুরজা)-এর কাছে পৌঁছেছে। এটি ছিল তার প্রিয় একটি পর্বত, আর সেই পর্বতই আজ তাকে আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছে।’

পরে ক্লাবটির মহাসচিব এএফপিকে নিশ্চিত করেন, নির্মল পুরজাসহ চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

পৃথিবীর আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বত মাত্র ছয় মাসে আরোহণ করে পর্বতারোহণের ইতিহাসে আলোড়ন তুলেছিলেন নির্মল পুরজা।

চলতি বছরের ৩০ জুলাই একটি অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ব্রড পিকে ছিলেন পুরজা। সে সময় তার দল তুষারধসে আটকা পড়ে।

নেপাল এবং আন্তর্জাতিক পর্বতারোহণ মহলে ‘নিমস দাই’ নামে পরিচিত পুরজা ২০১৯ সালে ‘প্রজেক্ট পসিবল’ সম্পন্ন করার পর আধুনিক পর্বতারোহণের সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একজন হয়ে ওঠেন।

এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল সাত মাসের মধ্যে বিশ্বের আট হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার ১৪টি পর্বত আরোহণ করা। তিনি সেই লক্ষ্য পূরণ করেন মাত্র ছয় মাস ছয় দিনে। সাত বছরেরও বেশি ব্যবধানে আগের রেকর্ডটি ভেঙে যায়।

পুরজা তার ক্যারিয়ারের বড় একটি অংশ কাটিয়েছেন মানুষের সহ্যক্ষমতার সর্বোচ্চ সীমা পরীক্ষা করতে। তার বিশ্বাস ছিল, দৃঢ় সংকল্প থাকলে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

২০১৯ সালে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে আমি ভাগ্যবান। তবে পৃথিবীর সেরা ইউনিটের কাছ থেকে প্রশিক্ষণও পেয়েছি।’

সামরিক প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে ইতিবাচক মানসিকতা যোগ হলে আপনি যেকোনো কিছু করতে পারবেন।’

১৯৮৩ সালের ২৫ জুলাই নেপালের মিয়াগদি জেলার দানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন পুরজা।
 

Related Articles

Latest Posts