চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষক ও দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আরেক শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানকে ‘বিদ্রুপ’ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে দর্শন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তাহসির হাসানকে এক বছরের জন্য এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ওয়াসিমকে স্থায়ীভাবে করা হয়েছে।
গত শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮তম সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল রোববার প্রশাসনের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. সফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক সফিকুল বলেন, চলতি বছরের জুলাইয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীর ওই ফেসবুক পোস্ট নিয়ে সমালোচনা হলে বিশ্ববিদ্যালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখতে নতুন আরেকটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এদিকে আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা এনায়েত এমির বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন শেখ হাসিনা হলের সামনে নৌকা প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কোরবান আলীকে মারধরের অভিযোগে এমিকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তার একাডেমিক সনদও বাতিল করা হয়।
পরে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন এমি। শুনানি শেষে আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে ছয় মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আদালতের শুনানির সময় এমি নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তার ছয় মাসের সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

