সাম্প্রতিক বন্যার তীব্র স্রোতে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরী উপজেলা এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক ভেঙে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৫ হাজারের বেশি মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো হলো কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়কমন্ডল, নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তেলানিকুটি এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্রেশ্বর গ্রামের তিনটি সড়ক।
কোথাও হাঁটুসমান পানি পেরিয়ে, আবার কোথাও কাঁধে সাইকেল তুলে ভাঙা সড়ক অতিক্রম করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু, শিক্ষার্থী, কৃষক ও বয়স্কদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধরলা নদীর প্রবল স্রোতে নাওডাঙ্গার গোড়কমন্ডল গ্রামের গ্রামীণ সড়কটির প্রায় ২৫ মিটার অংশ ধসে গেছে। সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার সকালে সড়কটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ওই পথে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এই সড়ক দিয়েই গ্রামের দেড় হাজারের বেশি মানুষ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা সদর ও জেলা শহরে যাতায়াত করেন। সরেজমিনে স্থানীয়দের কাঁধে সাইকেল তুলে কিংবা হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে ভাঙা অংশ পার হতে দেখা গেছে।
গ্রামের কৃষক মেছের আলী বলেন, ‘সড়ক ভেঙে যাওয়ায় মাঠের উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরের বন্যায় ক্ষতি আরও বাড়বে।’
নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাছেন আলী বলেন, ‘ভাঙা অংশ থেকে পানি নামার আগ পর্যন্ত সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পানি কমে গেলেই দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
গত সোমবার রাতে নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তেলানিকুটি গ্রামেও দুধকুমার নদীর প্রবল স্রোতে প্রায় ৩০ মিটার সড়ক ভেঙে গেছে।
স্থানীয় কৃষক সুজন চন্দ্র সেন বলেন, ‘এই সড়ক দিয়েই আমরা মাঠ থেকে ফসল আনি এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা সদরে যাতায়াত করি। বিকল্প রাস্তা থাকলেও সেখানে যেতে অন্তত পাঁচ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়। তাই দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।’
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি বলেন, ‘সোমবার রাতেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙা স্থানে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং এখনো পানি রয়েছে। প্রায় দুই হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। পানি নেমে গেলে দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
কুড়িগ্রাম জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি বন্যায় বিভিন্ন স্থানে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এসব সড়ক মেরামত করে জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্রেশ্বর গ্রামেও তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে প্রায় ১০ মিটার সড়ক ধসে গেছে। সোমবার রাতের এ ঘটনায় গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
গ্রামের বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘পানি নেমে যাওয়ার পর সড়কের আংশিক মেরামত করা হলেও এখনো কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। গ্রামের প্রায় এক হাজার মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করছেন।’
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গ্রামবাসীর চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি প্রাথমিকভাবে মেরামত করা হয়েছে। সড়কের পাশের পানি পুরোপুরি নেমে গেলে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করা হবে।’

