উড়ন্ত শুরুর পর হঠাৎ দিশা হারিয়ে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ

চট্টগ্রামের দর্শকেরা যেন সম্পূর্ণ বিপরীত ধরণের দুই ইনিংসের সাক্ষী হলেন আজ। প্রথম ইনিংসে পাওয়ারপ্লেতে হোঁচট খেয়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে যেখানে বড় স্কোর দাঁড় করিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, সেখানে দ্বিতীয় ইনিংসের অর্ধেক পর্যন্ত ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের খেসারত দিয়ে ম্যাচ ও সিরিজ দুটোই হেরেছে টাইগাররা। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ম্যাচ হেরেছে ৭ রানে। 

অথচ একটা সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিলো বেশ সহজেই সিরিজে সমতা ফেরাবে তাওহিদ হৃদয়ের দল। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান এনে দিয়েছিলেন উড়ন্ত সূচনা। শুধু তামিমের উইকেটটি হারিয়ে ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশ তুলে ফেলেছিল ৭২ রান। স্পেন্সার জনসন ও অ্যারন হার্ডিকে বেধড়ক পিটিয়ে তামিম ও সাইফ রানতাড়ায় সম্ভাব্য সেরা শুরুটাই করেছিলেন। 

পাওয়ারপ্লের পরপরই সৌম্য সরকার আউট হলেও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন সাইফ ও পারভেজ হাসান ইমন। দুজন মিলে ১৩ ওভারে ১৩০ পর্যন্ত নিয়ে যান দলকে। কিন্তু এরপরই খেলার মোড় ঘুরে যায় নাটকীয়ভাবে।

ত্রয়োদশ ওভারে অ্যারন হার্ডিকে এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিচেল মার্শের হাতে তালুবন্দী হন ইমন। তবে বাংলাদেশ আসল ধাক্কাটা খেয়েছে পরের ওভারে। মাত্র তিন বল আগে ৩৬ করা ইমনকে হারিয়েছে বাংলাদেশ, তবুও কী বুঝে জোয়েল ডেভিসের ওয়াইড বল তাড়া করতে গিয়ে কভারে সেই মার্শের হাতেই ক্যাচ তুলে দিলেন সাইফ, সেই ব্যাখ্যা বোধ হয় তিনিই সবচেয়ে ভালো দিতে পারবেন। অথচ ৩৩ বলে ৪২ রানে ক্রিজে থাকা সাইফই তখন রান তাড়ায় দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন। পাগলাটে এই আউটের পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি বাংলাদেশ। 

শামীম হোসেন ব্যাট হাতে কোনো অবদানই রাখতে পারেননি, ৮ বলে করেছেন ৭ রান। শেষ আশা ছিলেন অধিনায়ক হৃদয়, কিন্তু তিনি যতক্ষণে হাত খুলেছেন ততক্ষণে বাংলাদেশের জয়ের আশা প্রায় শেষ বললেই চলে। শেষ পর্যন্ত তাঁর ২২ বলে ৩৫ রানের ইনিংস ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে কিছু রানই যোগ করেছে শুধু, দলকে জয়ের মুখ আর দেখাতে পারেনি। 

ম্যাচ শেষে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক মিচেল মার্শের সঠিক সময়ে সঠিক বোলার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাঝের ওভারগুলোতে তিন স্পিনার জাম্পা, ডেভিস ও রেনশ’র নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশকে আরও চাপে ফেলেছে, আর শেষ দিকে স্লোয়ার বলের জন্য পরিচিত হয়ে ওঠা নাথান এলিসের বলে ব্যাটে-বলে করতেই খাবি খেতে হয়েছে ব্যাটারদের। 

ওয়ানডে সিরিজ হারলেও তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জেতা নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে টপ ও মিডল অর্ডারের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে চারজনই ভালো স্ট্রাইক রেটে ৩০ বা এর চেয়ে বেশি রান করার পরেও ১৯৭ তাড়া করতে না পারার আফসোসটা বোধহয় বাংলাদেশের সমর্থকদের রয়েই যাবে। 

Related Articles

Latest Posts