ইরানের সেনাবাহিনীর তেল বাণিজ্যের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রায় একই সময়ে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ শিথিল করা নিয়ে একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো এই চুক্তিতে অনুমোদন দেননি।
আজ শুক্রবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব তথ্য।
এতে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহনে জড়িত আটটি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
এসব জাহাজের মধ্যে রয়েছে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার ‘ফ্লোরা’, কমোরোস দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘হুয়ান কায়ো’ ও পানামার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘ইল গ্যাপ’।
এক বিবৃতিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, তেল বিক্রির অর্থ দিয়ে ইরান যাতে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে তা নিশ্চিত করতেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় হংকংয়ের ‘ওয়ার্থ সিন এনার্জি লিমিটেড’ ও ‘মেদিয়েভ ট্রেডিং কোম্পানি’ এবং দুবাইয়ের ‘সিম্ফনি শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম ম্যানেজমেন্ট ইনকরপোরেশন’সহ ১৫টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কিছু ইরানি প্রতিষ্ঠান তেল বিক্রির জন্য দেশটির সামরিক বাহিনীর অবকাঠামো ব্যবহার করছে।
উদাহরণ হিসেবে তারা জানায়, ‘ওয়ার্থ সিন’ নামে প্রতিষ্ঠানটি ‘সেপেহর এনার্জি জাহান’-এর পক্ষে ইরানের জন্য পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সংগ্রহ করে।
‘সেপেহর এনার্জি জাহান’ মূলত ইরানের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফের তেল বিক্রয়কারী শাখা। এই প্রতিষ্ঠানের ওপর আগেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সামরিক বাহিনী বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তারা নিজেদের সামরিক কার্যক্রমের জন্য অর্থ জোগাতে দেশের তেল বাণিজ্য পরিচালনা করে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে গোপনে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করে তারা।

