রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনার বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দেশে আইনের যে জটিলতা, সেই জটিলতা পেরিয়ে কবে নাগাদ মেয়ের বিচার পাব বা বিচারের শেষ দেখতে পারব জানি না।’
গতকাল মঙ্গলবার সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়।
এ ঘটনায় আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে প্রতিবেশী সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করে মামলা করেন।
নিহত রামিসার পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল রামিসা। হঠাৎ তার মা মেয়ের চিৎকার শুনতে পান। পরে পাশে সোহেলের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে রামিসার একটা জুতা দেখতে পান। এরপর সোহেলের ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে ভেতর থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার হন সোহেল রানা। গতকাল বুধবার তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবাবনবন্দি দেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে পল্লবীতে গিয়ে কথা হয় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নানের সঙ্গে। তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি ওদের দরজায়ও কোনোদিন যাইনি। আমি, আমার স্ত্রী কিংবা আমার সন্তানরা, আমরা কেউই পুরো বিল্ডিংয়ের অন্য কারও বাসায় যাই না। আমরা আমাদের মতো জীবনযাপন করি।’
তিনি জানান, বাড়িটির মালিক লন্ডন থাকেন। বাড়ির দায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার তার মতো করে ভাড়া দিয়ে থাকেন।
‘কেয়ারটেকার তার মতো করে বাড়ির সবকিছু দেখাশোনা করেন। আমি তাকে বলেছি যে তিনি বাসার পরিবেশ নষ্ট করছেন। কেয়ারটেকার কী করছে না করছে সেটাও মালিকের দেখার দায়িত্ব ছিল। সবকিছু মিলে আসলে ভুলে ভুলেই আমাদের জীবন,’ বলেন হান্নান।
রামিসার ধর্ষণ ও হত্যার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে তিনি বলেন, ‘এই কথাটা আমি আবারও বললাম। আমি দরিদ্র অসহায় বাবা। আমার আর্তনাদ সরকার পর্যন্ত যাবে কি না জানি না। তবে সরকারের পুলিশসহ সবাই যে সহযোগিতা ও আন্তরিকতা দেখিয়েছেন আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।’
‘কিন্তু আমাদের দেশে আইনের যে জটিলতা, সেই জটিলতা পেরিয়ে কবে নাগাদ মেয়ের বিচার পাব বা বিচারের শেষ দেখতে পারব, সেটা জানি না,’ বলেন তিনি।

