‘দাগ থেকে যদি ভালো কিছু হয় তবে দাগই ভালো’—বহুল প্রচারিত বিজ্ঞাপনের জিঙ্গলের মতোই যেন অবস্থা অনেকটা। অস্ট্রেলিয়া গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে স্রেফ ৫৪ রানে গুটিয়ে ইনিংস ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ দল। অথচ নাটকীয় ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস লেখে পরের সপ্তাহে সেই দলটিই; কোণঠাসা করে টেস্টে হারিয়ে দেয় পরাক্রমশালী অস্ট্রেলিয়াকে। প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের মতে, ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়াটাই তাদের কাজে দিয়েছে।
ডারউইনে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানো বাংলাদেশ দলকে নিয়ে ক্রিকেট দুনিয়ায় চর্চা এখনো চলমান। প্রতিদিনই কেউ না কেউ এই বিষয়ে কথা বলছেন। আলোচনা জমে উঠছে।
এসবের মাঝে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে বাশার বলেন, ‘শুনতে অদ্ভুত শোনাবে, কিন্তু ৫৪ রানে অলআউট হওয়াটা আসলে আমাদের সাহায্য করেছিল। আমি এটা বলছি কারণ জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আমরা ভালো ব্যাট করিনি। ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর সবার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বদলে যেতে দেখেছি। কোচ দলকে অনুশীলনে অতিরিক্ত পরিশ্রম করার নির্দেশ দেওয়ার পর, সবাই সত্যি তা মেনে নিয়েছিল। এর পরের দিনগুলোতে তারা খুব, খুব কঠোর পরিশ্রম করেছিল।’
দলকে কাছ থেকে দেখা বাশার মানসিকতার বদলও দেখেন এক্ষেত্রে, ‘আমি লক্ষ করেছি যে আমাদের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা এসেছে যখন আমরা মানসিকভাবে [৫৪ রানে অলআউট হওয়ার] ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। আমাদের দক্ষতা সবসময়ই ছিল, তাই সেখানে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি। কিন্তু [ব্যাটিং নিয়ে] এই যে ভাবনাচিন্তা করা, এখানেই আমি পরিবর্তনটা লক্ষ করেছি। প্রথম ইনিংসে তানজিদ যেভাবে ব্যাট করেছেন, তার মধ্যেই আপনারা এর প্রতিফলন দেখতে পেয়েছেন।’
অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সারির বোলিং আক্রমণের বিপক্ষে ৫৪ রানে অলআউট হয়ে তিন দিনের ম্যাচেই ইনিংস হার, এই অবস্থায় একটা দল টেস্টে কেমন করবে তা নিয়ে সংশয় আসা স্বাভাবিক। অথচ টেস্টে অজিদের ১৯৮ রানে আটকে রাখার পর সেই দল করে ফেলে ৪২৬ রান।
প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের ওই লিডের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রধান নির্বাচক মনে করেন পুরো দল নিজেদের প্রমাণ করতে নিংড়ে দিয়েছিল, ‘আমার মনে হয়েছে ওই প্রস্তুতি ম্যাচের পর সবাই নিজেদের কাছে কিছু একটা প্রমাণ করতে চেয়েছিল। পুরো দলের মানসিকতা এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল। আমরা অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার সময় এমন কিছু করার কথা বলছিলাম যা ক্যারিয়ারের স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকে। আমার মনে হয়, ভেতরের তাগিদ থেকেই সবাই বিশেষ কিছু করতে চেয়েছিল। আমি মনে করি তাদের মানসিক শক্তিই এই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’

