‘হাসির পাত্রে’ পরিণত পাকিস্তান, পিসিবিকে তুলোধোনা নাসেরের

মাঠের ব্যর্থতার চেয়েও মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডেই যেন বেশি আলোচনায় পাকিস্তান ক্রিকেট। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নেওয়া একের পর এক সিদ্ধান্ত এবার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসাইন তো সরাসরি বলে দিলেন, পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে পিসিবি পাকিস্তান ক্রিকেটকে আরও খারাপ অবস্থায় ফেলেছে, পরিণত করেছে ‘হাসির পাত্রে’।

হেডিংলি ও লর্ডসে টানা দুই টেস্ট হেরে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পরই নাটকীয় পরিবর্তনের পথে হাঁটে পিসিবি। সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলি আগা ও ইমাম-উল-হকসহ কয়েকজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদের জায়গায় তৃতীয় টেস্টের দায়িত্ব দেওয়া হয় সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে।

পিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়েই ক্ষুব্ধ নাসের হুসাইন। স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট পডকাস্টে সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক বলেন, হেডিংলিতে পাকিস্তানের হারের পর বিশ্ব ক্রিকেট পাকিস্তানকে নিয়ে হাসাহাসি করছিল না। বরং দলটির এমন অবস্থা দেখে তার হতাশা থেকেই সমালোচনা এসেছিল। কিন্তু এরপর পিসিবি যেভাবে পরিস্থিতি সামলেছে, তাতেই বিষয়টি হাস্যকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।

নাসেরের ভাষায়, ‘হেডিংলির পর বিশ্ব পাকিস্তানকে নিয়ে হাসছিল বলে আমি মনে করি না। লর্ডসে তাদের লড়াই না করা, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলো একতরফা হয়ে যাওয়া কিংবা দুর্বল দল দুর্বল ক্রিকেট খেলছে, এসব নিয়ে আমার সমালোচনা ছিল হতাশা থেকে। এই মহান ক্রিকেট জাতি এখন কোথায় নেমে গেছে, সেটা দেখেই হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু তারা এখন যা করেছে, তাতে পাকিস্তানকে হাসির পাত্রে পরিণত করেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।’

পাকিস্তানের ক্রিকেটীয় ব্যর্থতার পাশাপাশি ইমাম-উল-হকের চোটের বিষয়টি যেভাবে সামলানো হয়েছে, সেটিও বিশেষভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন হুসাইন।

লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে ফিল্ডিংয়ের সময় কাফ মাসলে চোট পান ইমাম। পরে স্ক্যানে চোট ধরা পড়ায় তিনি দ্বিতীয় টেস্টের কোনো ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি। কিন্তু তার চোট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন পিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক আকিব জাভেদ। এমনকি প্রকাশ্য টেলিভিশন আলোচনায় ইমামের চোট নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে চতুর্থ দিনের খেলা শুরুর আগে ইমামকে নেটে ব্যাটিং করতে দেখা যাওয়ার পর তার চোটের মাত্রা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সাবেক ইংলিশ পেসার স্টুয়ার্ট ব্রডও ঘটনাটিকে ‘শো’ হিসেবে মন্তব্য করেছিলেন।

তবে কোনো ক্রিকেটারের চোট নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলার বিষয়টিই মানতে পারছেন না নাসের। তার মতে, খেলোয়াড়ের চোট সত্যি কি না, সেটি যাচাই করার দায়িত্ব দলের চিকিৎসক ও ব্যবস্থাপনার; প্রকাশ্যে একজন ক্রিকেটারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নয়।

‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, হাই পারফরম্যান্স বিভাগের একজন পরিচালক কীভাবে টেলিভিশনে গিয়ে নিজের একজন খেলোয়াড়কে সবার সামনে বলির পাঁঠা বানাতে পারেন। সে চোট পেয়েছে, নাকি পায়নি, বিষয়টা এতটুকুই,’ বলেন নাসের।

তিনি আরও বলেন, ‘অন্য যেকোনো সফরকারী দলের ক্ষেত্রে কোনো খেলোয়াড় কেমন আছে জানতে চাইলে তারা বলবে, “তার স্ক্যান হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে সে ব্যাট করবে।” ইমামের বিষয়টি যেভাবে সামলানো হয়েছে, পুরো ব্যাপারটাই হাস্যকর। খেলোয়াড়দের কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিতে হয়।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় টেস্ট শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর বার্মিংহামে। 
 

Related Articles

Latest Posts