সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধারের পর নেপালি শ্রমিক বললেন ‘অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে বের হতে পারিনি’

নেপালের নুওয়াকোটে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে নয় দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকের একজন সঞ্জয় শাহ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর অন্যদের নিরাপদে বের করে দিতে গিয়ে তিনি নিজেই আটকা পড়েন।

এদিকে উদ্ধার হওয়া অপর শ্রমিক কবির মহার্জনের স্ত্রী বলেছেন, তার স্বামী যেন ‘দ্বিতীয় জীবন’ পেয়েছেন।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাপ্তরীর বাসিন্দা মেকানিক্যাল ফোরম্যান সঞ্জয় শাহ ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কন্ট্রোল রুমে কাজ করছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনি দ্রুত বেরিয়ে না গিয়ে অন্য শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

উদ্ধারের পর নেপালি সেনাবাহিনীর চিকিৎসকদের তিনি বলেন, ‘আমি কন্ট্রোল রুমে কাজ করছিলাম। সবাইকে বাঁচানোই ছিল আমার দায়িত্ব।’

সঞ্জয় জানান, তিনি সবাইকে দৌড়ে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু অন্যদের বের করে দিতে গিয়ে তার নিজের বের হওয়ার সময় চলে যায়।

‘আমি সবাইকে দৌড়াতে বলেছিলাম। সেটা করতে গিয়ে আমার সময় চলে যায়। শেষ পর্যন্ত আমি বের হতে পারিনি,’ বলেন তিনি।

সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকার সময় তিনি একটি মন্ত্র জপ করে সময় কাটান বলে জানান সঞ্জয়।

সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তার আশপাশে তিন-চারজনের সঙ্গে কথা বলা বা শব্দ করে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল। তবে সুড়ঙ্গটি অনেক দীর্ঘ হওয়ায় আরও মানুষ গভীরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে জানান তিনি। তার ধারণা, বন্যার পানির প্রবল স্রোতে কেউ কেউ আরও গভীরে ভেসে যেতে পারেন।

গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলি উপত্যকায় আকস্মিক বন্যার পর ত্রিশূলি-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে সঞ্জয় ও কবির আটকা পড়েন। শুক্রবার সকালে নেপালি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী বিদেশি উদ্ধারকারী দলের সহায়তায় তাদের জীবিত উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া অপর শ্রমিক কবির মহার্জন কাঠমান্ডুর বাসিন্দা। তাকে উদ্ধারের পর তার স্ত্রী হিরা শোভা বলেন, তার স্বামী যেন ‘দ্বিতীয় জীবন’ পেয়েছেন।

নেপালি সংবাদমাধ্যম কান্তিপুরকে হিরা শোভা বলেন, ‘সে দ্বিতীয় জীবন নিয়ে ফিরে এসেছে। আমরা অত্যন্ত খুশি। আমরা অপেক্ষা করছিলাম। এখন আমি হাসপাতালে স্বামীকে দেখতে যাচ্ছি।’

স্বামীকে উদ্ধারের আগের নয় দিনকে অত্যন্ত কষ্টের বলে বর্ণনা করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘দিনগুলো পার করা খুব কঠিন ছিল। এক-দুই দিন নয়। আমরা খেতেও পারিনি, ঘুমাতেও পারিনি।’

তারা বিশ্বাস করতেন কবির সুড়ঙ্গের ভেতরেই জীবিত আছেন এবং ফিরে আসবেন বলেও জানান তিনি।

উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে হিরা শোভা বলেন, এমন একটি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে দীর্ঘ সময় লাগে। নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে তারা তার স্বামীকে উদ্ধার করেছেন।

তিনি জানান, কবির গত সাত বছর ধরে ত্রিশূলি-৩এ প্রকল্পে কাজ করছিলেন। গত বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বন্যার আঘাত হানার কিছুক্ষণ আগে সর্বশেষ তার সঙ্গে কথা হয়েছিল।

দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় ত্রিশূলি নদী উপত্যকার একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বহু শ্রমিক নিখোঁজ হন। তাদের উদ্ধারে এখনো অভিযান চলছে।

Related Articles

Latest Posts