সেগুন, মেহগনি নাকি গামারি: আসবাবের জন্য কোন কাঠ

বাঙালির অন্দরসজ্জায় কাঠের আসবাবের কদর চিরকাল। শোয়ার ঘরের সেগুনের খাট, খাবার ঘরের মেহগনির টেবিল বা বসার ঘরের গামারির বুকশেলফ এসব কেবল আসবাব নয়, সময়ের সঙ্গে হয়ে ওঠে পরিবারেরই অবিচ্ছেদ্য অংশে। তবে সঠিক কাঠ নির্বাচনের বিষয়টি কেবল দাম বা সৌন্দর্যের ওপর নির্ভর করে না।

বাংলাদেশের গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও বর্ষাকাল কাঠের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই কেবল কাঠের জাত নয়, এর গুণগত মান, শুকানোর প্রক্রিয়া এবং ফিনিশিংয়ের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।

অনেকে কোন আসবাবের জন্য কোন কাঠ উপযুক্ত তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। জেনে নেওয়া যাক কোন কাঠের কী বৈশিষ্ট্য আর কোন আসবাবের জন্য কোনটি বেছে নেওয়া উচিত।

সেগুন: প্রিমিয়াম কোয়ালিটি

আসবাবের বাজারে সবার ওপরে থাকে সেগুন কাঠের চাহিদা। পোক্ত গঠন, দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্রতা ও ঘুণরোধী হওয়ায় এই কাঠের দামও তুলনামূলক বেশি। খাট, ডাইনিং টেবিল, আলমারি বা কেবিনেট তৈরিতে সেগুন কাঠের জুড়ি নেই। এই কাঠের সোনালি রং ও টেক্সচার আসবাবের সৌন্দর্য অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। ব্যয়বহুল হওয়ায় এই কাঠের আসবাবকে দীর্ঘমেয়াদি প্রিমিয়াম বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

মেহগনিতে দাম ও মানের ভারসাম্য

স্থায়িত্ব, সৌন্দর্যের সঙ্গে খরচের ভারসাম্য করতে চাইলে প্রথম পছন্দে থাকবে মেহগনি কাঠ। খাট, আলমারি, ড্রেসিং টেবিল, বুকশেলফ থেকে শুরু করে ডাইনিংয়ের আসবাব তৈরিতে এই কাঠের ব্যবহার করা হয়। তবে মেহগনি কাঠের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এর ‘সিজনিং’। ভালোভাবে সিজনিং করা না হলে আর্দ্রতার তারতম্যে শুকিয়ে বেঁকে যেতে পারে কিংবা ফাটল ধরতে পারে।

গামারি: হালকা ও স্থানান্তরে সুবিধাজনক

দেশীয় কাঠের মধ্যে গামারি বেশ জনপ্রিয়। ওজনে হালকা ও সহজে নকশা করা যায় বলে কেবিনেট ও ঘরের ভেতরের সাধারণ আসবাব তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। যারা ঘন ঘন বাসা বদল করেন বা ঘরের আসবাবের স্থান পরিবর্তন করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য গামারির আসবাব সুবিধাজনক। তবে মেহগনির মতোই গামারির ক্ষেত্রেও কাঠের সঠিক সিজনিং দরকার।

গর্জন: মজবুত ও সাশ্রয়ী

শক্তিশালী হওয়ায় গর্জন কাঠের আলাদা কদর রয়েছে। আসবাবের পাশাপাশি দরজার চৌকাঠ ও নির্মাণকাজেও এর ব্যবহার দেখা যায়। মজবুত খাট, টেবিল এবং আসবাবের ফ্রেম তৈরির জন্য এটি ভালো বিকল্প হতে পারে।

আমদানি করা কাঠ: ওক ও ম্যাপল

আসবাবের বাজারে বিদেশি ওক ও ম্যাপল কাঠের উপস্থিতিও বাড়ছে। বিদেশে আভিজাত্যের জন্য এগুলো সমাদৃত হলেও, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় এগুলো কতটা টিকবে তা নির্ভর করে আর্দ্রতার মাত্রা ও ফিনিশিংয়ের ওপর।

ইঞ্জিনিয়ার্ড উড: আধুনিক ও সাশ্রয়ী বিকল্প

বর্তমানে আধুনিক ঘরের আলমারি, রান্নাঘরের কেবিনেট, অফিসের আসবাব বা মডুলার স্টোরেজে প্লাইউড, এমডিএফ এবং পার্টিকেল বোর্ডের মতো ‘ইঞ্জিনিয়ার্ড উড’ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এগুলো সাশ্রয়ী ও মাপে নিখুঁত হয়। এক্ষেত্রেও আর্দ্রতা একটা বড় সমস্যা। বর্ষাকালে এমডিএফ বা পার্টিকেল বোর্ড নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যা খেয়াল রাখবেন

আসবাব কেনার সময় কেবল কাঠের নাম শুনলেই হবে না। দেখতে হবে কাঠটি সঠিকভাবে সিজনিং করা হয়েছে কি না। আসবাবটি সলিড কাঠের নাকি ওপরে ভিনিয়ার বা পাতলা কাঠের প্রলেপ ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে হবে।

এছাড়া ভেতরের কাঠামোতে কী উপাদান ব্যবহৃত হয়েছে এবং আর্দ্রতা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা আছে, বিক্রেতাকে এই প্রশ্ন করাও জরুরি।

Related Articles

Latest Posts