ভীষণ কঠিন সময় পার করতে থাকা দলকে জয়ের দিশা দিতে জ্বলে উঠলেন লিওনেল মেসি। তলানির দিকে থাকা সিএফ মন্ট্রিয়লকে স্রেফ গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথে একাই গুণে গুণে চার গোল করলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এমন জাদুকরী পারফরম্যান্সের পর তার প্রশংসায় যেন ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না ইন্টার মায়ামির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গিয়ের্মো হোয়োস।
রোববার সকালে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত মেজর সকার লিগের (এমএলএস) ম্যাচে মেসির কাঁধে চেপে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে মায়ামি। তার চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্যে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙেছে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে আগের পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছিল দলটি, ড্র করেছিল বাকিটিতে।
২০২৩ সালে মায়ামির ডেরায় যোগ দেওয়ার পর এমএলএসে এই প্রথম কোনো ম্যাচে চার গোল করলেন মেসি। স্মরণীয় জয়ের পর তাকে নিয়ে ক্লাবটির আর্জেন্টাইন কোচ যা বলেন, তা আগেও বহুবার শোনা গেছে অনেকের মুখে, ‘এমন ফুটবলীয় সৌন্দর্য বর্ণনা করার মতো কোনো ভাষা নেই। এত কিছু ঘটছে যে, ভাষা যেন হার মেনে যায়।’
মায়ামির জন্য মৌসুমের খুব জরুরি সময়ে এসেছে মেসির এই চার গোল। প্রথমার্ধে একবার ও দ্বিতীয়ার্ধে তিনবার জাল খুঁজে নেন ৩৯ বছর বয়সী এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড। দুটি এসেছে ফ্রি-কিক থেকে, বাকি দুটির একটি তিনজনকে কাটিয়ে দর্শনীয় কায়দায়। তার সামর্থ্য সম্পর্কে সবার জানা থাকলেও ক্যারিয়ারের শেষবেলাতেও এমন কিছু করে দেখানো চমক জাগাতে বাধ্য।
৪০তম মিনিটে বাঁকানো ফ্রি-কিকে দলকে এগিয়ে দিয়ে স্কোরলাইন ২-১ করেন মেসি। তার শট প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে হালকা ছোঁয়া লেগে গোলরক্ষকের হাতে লেগে জালে জড়ায়। এরপর ৫৩তম মিনিটে মাঝমাঠে বল পেয়ে দারুণ গতিতে মন্ট্রিয়লের কয়েকজনকে পায়ের কারিকুরিতে পরাস্ত করে নিচু শটে গোল করেন। মেসির হ্যাটট্রিক পূর্ণ হয় ৮৩তম মিনিটে। আলতো চিপে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে তিনি করেন লক্ষ্যভেদ। আর যোগ করা সময়ে আরেকটি ফ্রি-কিকে সফরকারীদের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন মেসি। তার দর্শনীয় শট আটকানোর কোনো উপায় খুঁজে পাননি গোলরক্ষক।
রেকর্ড আটবারের ব্যালন দি’অরজয়ী তারকা চার গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তাও করেন। তার পাস ধরে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে মায়ামির পক্ষে চতুর্থ গোলটি করেন উরুগুইয়ান স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ।
কোচ হোয়োসকে ছাড়াই ম্যাচটি খেলেছে মায়ামি। প্রথমার্ধের বিরতির পর বারবার মাঠে নামতে দেরি করায় লিগের নিয়মভঙ্গের দায়ে (লেট কিক-অফ পলিসি) তাকে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তাই মেসিসহ দলের দাপুটে পারফরম্যান্স তিনি দেখেন বক্স থেকে।
শিষ্যের প্রশংসায় হোয়োস যোগ করেন, ‘সে সব সময়ই সেই বিশেষ গোল, সেই জাদুকরী মুভমেন্ট ও সেই নিখুঁত পাসটির খোঁজে থাকে। আমার মনে হয় না সে কোনো সাধারণ ফুটবলার। খেলোয়াড় ও মানুষ— উভয় দিক থেকেই তাকে বিশ্লেষণ করতে গেলে এত গভীরে যেতে হয় যে, আপনার ভাষা ফুরিয়ে যাবে।’
১৮ গোল নিয়ে এমএলএসের চলমান মৌসুমের গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে উঠে গেছেন নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রাখা মেসি। পেশাদার ক্যারিয়ারে এই নিয়ে নয়বার এক ম্যাচে চার বা এর চেয়ে বেশি গোল করলেন তিনি। ক্লাব পর্যায়ে এর আগে শেষবার তিনি অন্তত চার গোল করেছিলেন ২০২০ সালে, লা লিগায় বার্সেলোনার হয়ে এইবারের বিপক্ষে।

