সবচেয়ে বেশি আইসিসির মাসসেরা হওয়ার রেকর্ড গিলের

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগেই ওয়ানডেতে রেকর্ডগড়া অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি করেন শুভমান গিল। যার ফলে আইসিসির সেপ্টেম্বর মাসের সেরা পুরুষ ক্রিকেটারের স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো এই পুরস্কার জিতে রেকর্ডও গড়েছেন ভারতের তরুণ অধিনায়ক।

মঙ্গলবার আইসিসির ঘোষিত ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’-এর তালিকায় সতীর্থ অভিষেক শর্মা ও জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজাকে হারিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেন গিল।

গত সেপ্টেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম দুটি ওয়ানডেতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন গিল। দুই ম্যাচে তার রান ছিল ৩৩৩। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পর দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেছেন অপরাজিত দ্বিশতক। অধিনায়কের এমন নৈপুণ্যে দুটি ম্যাচই ৮ উইকেটে জিতে নেয় ভারত।

২৭ সেপ্টেম্বর তিরুভানান্তপুরমে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৯৫ রানের জবাবে ১০৮ বলে ১১০ রানের ইনিংস খেলেন গিল। ভারত ৪১.৪ ওভারেই ২৯৬ রানের লক্ষ্য টপকে যায়।

A post shared by ICC (@icc)

এই ইনিংসে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন গিল। ভারতীয় অধিনায়ক হিসেবে দ্রুততম (৬২ বলে) ওয়ানডে শতক এবং ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম (১১৭ বলে) দ্বিশতকের কীর্তি গড়েন তিনি। ওয়ানডেতে রান তাড়ায় এটিই এখন ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। উদ্বোধনী জুটিতে রোহিত শর্মাকে (৭৫ বলে ১০১) নিয়ে ২৫৫ রান যোগ করেন তিনি, যা ভারতের মাটিতে ওয়ানডেতে যেকোনো উইকেটে দেশটির সর্বোচ্চ জুটি। ওভারঅল ওয়ানডে ইতিহাসে সফল রান তাড়ার তালিকায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

যদিও ৩ অক্টোবরের শেষ ম্যাচে হেরে ৩-মেসের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জেতে ভারত।

২০২৩ সালের জানুয়ারি ও সেপ্টেম্বর এবং ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুলাইয়ের পর এটি গিলের পঞ্চম আইসিসি মাসসেরার স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে পুরুষ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশিবার মাসের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার নিজের রেকর্ডটি আরও সমৃদ্ধ করলেন তিনি। গিলের এই জয়ে ভারতীয় পুরুষ ক্রিকেটারদের মোট ১৭টি পুরস্কার অর্জন হলো, যা জিতেছেন ১১ জন ক্রিকেটার। ভারতের হয়ে সবশেষ গত মার্চে এই সম্মাননা পেয়েছিলেন সঞ্জু স্যামসন।

পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গিল বলেন, ‘পঞ্চমবারের মতো আইসিসির মাসের সেরা খেলোয়াড় হতে পেরে অসাধারণ লাগছে। এই সম্মানের জন্য নির্বাচক প্যানেলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। রানগুলো করা অত্যন্ত আনন্দের ছিল, আর ঘরের মাঠে দর্শকদের সামনে রান তাড়া করে দলকে জেতাতে পারাটা আরও বিশেষ অভিজ্ঞতা।’

ক্রিকেটের আধুনিক রূপান্তর প্রসঙ্গে ভারতীয় অধিনায়ক যোগ করেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটের গতি এখন অনেকটাই বেড়ে গেছে। এখন মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং উইকেটের পরিস্থিতি বুঝে মানিয়ে নিতে হয়। আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসি পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমরা নিজেদের মান আরও বাড়াতে এবং একটি শক্তিশালী ও অলরাউন্ড দল গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

Related Articles

Latest Posts