শরিয়াহ আইন নিয়ে সংসদে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
আজ বৃহস্পতিবার প্রয়াত সংসদ সদস্য সুনীল কুমার গুপ্তের স্মরণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কথাটা বলার মধ্য দিয়েই একটা বহুত্ববাদী রাজনীতির কথা আমরা বলেছি। একটা বহু চিন্তার বৈচিত্র্যের কথা আমরা বলেছি এবং বর্তমান সভ্যতার জন্য এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যারা যারা এই বৈচিত্র্যকে স্বীকার করতে চায় না, তারাই সমাজে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়। যে সমাজ বৈচিত্র্যকে মেনে নিয়ে, ধারণ করে, এটাকে একটা সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করে, সেই সমাজ এবং রাষ্ট্র অনেক বেশি সভ্য এবং এগিয়ে যায়।’
এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বৈচিত্র্যকে ধারণ করে চলতে পারার কারণেই কিন্তু আজকে উন্নতির শিখরে উপস্থিত হয়েছে।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিরোধী দল, জামায়াতে ইসলামী গতকালকেও বক্তৃতায় বলেছেন শরিয়াহ আইন কায়েম করবে। অথচ গত ১৪ জানুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যখন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের একটি প্রতিনিধি দল দেখা করতে গিয়েছিল, সেখানে স্পষ্টভাবেই জামায়াত আমির বলেছেন যে, তারা শরিয়াহ আইন রাখবেন না। ক্ষমতায় গেলে তারা সংবিধান দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবেন। আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না, গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জানতে চাই, কোনটি তাদের অবস্থান?’
‘তারা কি দেশের প্রচলিত সাংবিধানিক আইনকে মেনে শাসন ক্ষমতা পাওয়ার চেষ্টা করছেন নাকি তারা শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা প্রতিজ্ঞা নিয়ে রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, সাংবিধানিক এবং সংসদীয় তৎপরতা চালাচ্ছেন,’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেয়। এ ব্যাপারকে ‘শুভ লক্ষণ’ উল্লেখ করে স্বপন বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর জন্ম লগ্ন থেকেই আমরা খেয়াল করেছি যে, তারা ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তন এনেছেন। জন্ম লগ্নে মওদুদী সাহেব যেটা বলেছিলেন, ইসলামি সংবিধান তৈরি করতে হবে। যে কারণে পাকিস্তান জন্মেরও তারা বিরোধিতা করেছিলেন। মুসলিম লীগের নেতৃত্বে পাকিস্তানের এই সংগ্রামকে তারা একটি প্রকৃত আদর্শভিত্তিক আন্দোলন মনে করেন নাই। করেন নাই বলেই পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন। পাকিস্তান জন্মের পরে মেনে নিয়েছিলেন।’
‘পরবর্তীকালে আবার পাকিস্তানের রাষ্ট্র কাঠামোতে কাদিয়ানিদের সঙ্গে আবার বিরোধ এবং কাদিয়ানিদের হত্যাকাণ্ড। সেই হত্যাকাণ্ড তদন্ত ও বিচারের জন্য তৎকালীন বিচারপতি মনিরের নেতৃত্বে মনির কমিশন গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিশন অপরাধী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতা আবুল আলা মওদুদী সাহেবকে চিহ্নিত এবং তার ফাঁসির সুপারিশ করেছিল। পরবর্তীকালে ফাঁসির আদেশ কমিয়ে তাকে কারাবন্দি থাকতে হয়েছে বছর দুয়েকের মতো,’ বলেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা খেয়াল করেছি ২০১২ সালে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বজায় রাখার জন্য তারা আরও বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন। তাদের গঠনতন্ত্রে ছিল যে, আল্লাহর আইন কায়েম করতে হবে, আল্লাহর শাসন কায়েম করতে হবে, সার্বভৌমত্ব, ইসলামি শাসন ব্যবস্থা ইত্যাদির ক্ষেত্রে তারা পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। আমাদের সাংবিধানিক যেসব শব্দগুলো আছে, সেভাবে তারা এটাকে রিপ্লেস করেছেন। এভাবে জন্ম লগ্নের অবস্থান থেকে ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে হতে গত জানুয়ারি মাসে শরিয়াহ আইন বাতিল করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে তারা রাজনীতি করার প্রস্তুতি আমরা দেখেছিলাম পত্রিকায়, সে জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই।’
‘কিন্তু পার্লামেন্টের এখন নতুন করে যেহেতু প্রশ্ন আসছে, আমি গণমাধ্যমের মাধ্যমে তাদের কাছে জানতে চাই এ বিষয়ে তাদের স্পষ্ট অবস্থানটা কী,’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।

