কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও বড়াইবাড়ি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে সেই চেষ্টা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তের শূন্যরেখায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছেন কয়েকজন নারী, শিশু ও পুরুষ।
পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে বিজিবি। তবে আজ রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত সাড়া দেয়নি বিএসএফ।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার ভোরে আসামের ধুবড়ি জেলার জালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হন। ওই ছয়জনকে কাঁটাতারের কাছাকাছি সীমান্তের ফাঁকা এলাকায় রেখে যায় বিএসএফ।
একই সময়ে বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্পসংলগ্ন ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়েও আরও তিনজনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও বিজিবি ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থান এবং প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
গয়টাপাড়া সীমান্তের বাসিন্দা সফিয়ার রহমান (৫৫) বলেন, ‘বিএসএফ সদস্যদের নিয়ে আসা লোকজন এখনো জিরো লাইনে (শূন্যরেখা) অবস্থান করছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। তারা কোন দেশের নাগরিক, সেটাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে একজন নারী ও দুজন শিশু রয়েছে। প্রচণ্ড রোদে তাদের কষ্ট দেখে খারাপ লাগছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শূন্যরেখা থেকে কেউ যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিজিবির পাশাপাশি এলাকাবাসীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পুশ ইন চেষ্টা প্রতিহত করতে আমরা বিজিবিকে সহযোগিতা করছি।’
বড়াইবাড়ি সীমান্তের বাসিন্দা খোরশেদ আলম (৩৫) বলেন, ‘বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিনজনকে সরিয়ে ভারতের ভেতরে নিয়ে গেছেন। আমরা এখনো সতর্ক অবস্থানে আছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে বিএসএফ সদস্যদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। সীমান্ত সড়কে তাদের যানবাহন টহল দিচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে সবাই নজর রাখছেন।’
জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘রোববার ভোরে দুটি সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ মোট নয়জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের বাধার কারণে তারা সফল হতে পারেনি।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য বিএসএফকে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখনো তারা সাড়া দেয়নি। সীমান্তে অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিষয়ে আমরা সতর্ক নজর রেখেছি।’
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সীমান্তে অবৈধ পুশ ইনের যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় জনগণও আমাদের সহযোগিতা করছেন। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

