রোনালদো ছিলেন বেঞ্চে, গোল পেলেন হালান্ড, তবু শেষ হাসি পর্তুগালের। গনসালো রামোসের জয়সূচক গোলে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে পর্তুগাল। রোনালদোর অভাব অনুভব করতে হয়নি জর্জ জেসুসের দলকে।
রোববার অসলোতে জোয়াও ফেলিক্স ও রামোসের গোলে জয় পায় পর্তুগাল। নরওয়ের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন হলান্ড। বৃহস্পতিবার গ্রুপে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারানোর পর এই জয় নিয়ে নেশন্স লিগে দারুণ শুরু করেছে পর্তুগাল।
৪১ বছর বয়সী রোনালদোকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের পর এবারই প্রথম পর্তুগালের একাদশের বাইরে রাখা হয়। শুধু বেঞ্চেই ছিলেন না, পুরো ম্যাচে মাঠেও নামেননি তিনি।
রোনালদোর জায়গায় একাদশে সুযোগ পাওয়া রামোস অবশ্য নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ম্যাচে জয়সূচক গোল করার পাশাপাশি পুরো সময়ই ছিলেন পরিশ্রমী। জাতীয় দলের হয়ে এটি তার ১২তম গোল।
ম্যাচ শেষে স্পোর্ট টিভিকে রামোস বলেন, ‘প্রতিটি মুহূর্তই গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, যখনই আমাকে সুযোগ দেওয়া হবে, তখনই আমি কী করতে পারি তা দেখানো এবং দলকে সাহায্য করা। এটি আমার কাজের, আমি দলকে কী দিতে পারি তারই প্রমাণ। শুধু গোল নয়, মাঠে আমি যা করি, সবকিছুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা নরওয়ে অবশ্য শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। মার্টিন ওডেগার্ডের বাড়ানো বলে হলান্ড ভলি করার চেষ্টা করেন, কিন্তু ঠিকমতো সংযোগ করতে পারেননি। পর্তুগালের গোলরক্ষক দিয়োগো কোস্তা সহজেই বলটি ঠেকিয়ে দেন।
এরপর ১৭ মিনিটেই নরওয়েকে শাস্তি দেয় পর্তুগাল। বক্সের বাইরে থেকে জোয়াও ফেলিক্স নিখুঁত শটে বল পাঠান নিচের কোণায়। এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
এর কিছুক্ষণ পরই সমতা ফেরানোর দারুণ সুযোগ পান হালান্ড। কস্তার হাত ফসকে বল তার সামনে চলে এলেও ম্যানচেস্টার সিটির সতীর্থ রুবেন দিয়াশের দুর্দান্ত ব্লকে গোলবঞ্চিত হন নরওয়ের অধিনায়ক। বিরতির ১০ মিনিট আগে আবারও হালান্ডকে আটকে দেন কস্তা। নিচু হেড থেকে নেওয়া তার চেষ্টা অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আর ভুল করেননি হলান্ড। ৫১ মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের হেড থেকে আসা বলে পা ছুঁইয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। ম্যাচে ফেরে নরওয়ে।
কিন্তু সমতা ফেরানোর আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি স্বাগতিকদের। অরিয়ান নিলান্ডের ভুল পাস সরাসরি রামোসের কাছে চলে গেলে সুযোগটি আর নষ্ট করেননি পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষককে সামনে পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল চিপ করে জালে পাঠান তিনি। আবার এগিয়ে যায় পর্তুগাল।
এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল পর্তুগাল। রাফায়েল লেয়াওর শট নরওয়ের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। পরে রামোস আরও একবার গোল করে ফেলেছিলেন। নিলান্ড গোলপোস্ট ছেড়ে অনেকটা সামনে চলে আসার সুযোগে দূরপাল্লার বলে তাকে পরাস্ত করেন রামোস। কিন্তু ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনায় অতি সামান্য অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।
শেষ দিকে গোলরক্ষক নিলান্ডকেও আক্রমণে পাঠিয়ে দেয় নরওয়ে। সমতা ফেরানোর জন্য সবাই মিলে পর্তুগালের রক্ষণে চাপ তৈরি করলেও আর গোলের দেখা পায়নি স্বাগতিকরা। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।

