বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘উঠিয়ে’ নিয়ে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানুয়ারির ওই ঘটনা এখন পুরনো খবর। সে সময় থেকেই ট্রাম্প আভাস দিয়ে যাচ্ছেন, এ অঞ্চলে তার পরবর্তী লক্ষ্য কিউবা।
কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। গত ষাট বছরে অসংখ্য চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী হয়েছে এই দুই দেশ।
বেশ কিছুদিন দ্বৈরথের আগুন চাপা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিউবার ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিউবাকে ‘হুমকি’ হিসেবেই দেখছে। তাদের আশংকা। কিউবা বড় ‘হুমকি’। গুয়ান্তানামো বে ও ফ্লোরিডায় ড্রোন হামলা চালাতে পারে বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোর দেশ।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকি দানা বেঁধে ওঠার আগেই তা দমন নীতির আওতায়’ খুব শিগগির কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেবেন ট্রাম্প।
এই পরিস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। তিনি হুশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্র কিউবায় হামলা চালালে ‘রক্তবন্যা বয়ে যাবে এবং জান-মালের এমন ক্ষতি হবে, যা পরিমাপ করা যায় না।’
আজ মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে দিয়াজ বলেন, ‘কিউবা কোনো হুমকি নয়। কোনো দেশের বিরুদ্ধে তাদের কোনো আগ্রাসী পরিকল্পনা বা অভিলাষ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই এবং কখনো ছিলও না। ওই দেশের সরকারও বিষয়টি ভালো করেই জানে।’
প্রেসিডেন্ট দিয়াজ আরও জানান, কিউবা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বহুমাত্রিক আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে।
‘সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত ও বৈধ অধিকার আছে কিউবার’, যোগ করেন তিনি।
তিনি মত দেন, চলমান পরিস্থিতিতে কিউবার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক দশকের মধ্যে ওয়াশিংটন-হাভানা সম্পর্ক এতটা খারাপ অবস্থায় নামেনি।
কমিউনিস্ট শাসিত দ্বীপ রাষ্ট্রে চলছে চরম জ্বালানি সংকট। মূলত ট্রাম্পের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ আমদানি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। যার ফলে, দিনের একটি বড় অংশজুড়ে কিউবার বেশিরভাগ অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।
গত সপ্তাহে কিউবার জ্বালানী মন্ত্রী ভিচেন্তে দে লা ও লেভি জানান, শেষ মুহূর্তে রাশিয়া থেকে কিছু তেল এসেছিল। অনুদান হিসেবে আসা সেই তেলের মজুদও ফুরিয়ে গেছে। যার ফলে, কিবার জনগণকে আরও কিছুদিন ভোগান্তি পোহাতে হবে।
সোমবার কিউবার বিরুদ্ধে নতুন করে আরও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার দেশটির মূল গোয়েন্দা সংস্থা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, ‘আগামীতে আরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।’
এর আগেই কিউবার বিচার বিভাগীয় মন্ত্রী ও বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনীর উপমন্ত্রীসহ ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
অপরদিকে, ট্রাম্পের খড়গের ভয়ে দুইটি জাহাজীকরণ প্রতিষ্ঠান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কিউবায় পণ্য পরিবহন বন্ধ করতে যাচ্ছে তারা।
ট্রাম্প প্রশাসনের আইন মেনে হ্যাপাগ-লয়েড ও সিএমএ সিজিএম এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত কিউবার খাদ্য নিরাপত্তার প্রতি বড় হুমকি তৈরি করবে।
কৃষিখাতে ধস ও অর্থনৈতিক অনিয়মের কারণে কিউবার বেশিরভাগ খাবার বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এক কালে চিনি, কফি ও তামাক উৎপাদনে বিশ্বসেরা হলেও কিউবার সেই সুদিন আর এখন নেই। এসব পণ্যও এখন আমদানি করতে হয় হাভানাকে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হামলা এলে দেশটির জনগণের দুর্ভোগ আরও বহুগুণে বেড়ে যেতে পারে।

