সান ডিয়েগোর মসজিদে গুলি: ২ হামলাকারীসহ নিহত ৫

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর একটি মসজিদে বন্দুকধারীদের হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে সন্দেহভাজন দুই কিশোর বন্দুকধারীকে একটি গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা নিজেদের গুলিতেই আত্মহত্যা করেছে।

স্থানীয় সময় সোমবার সান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদ ‘ইসলামিক সেন্টার’-এ এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তাকর্মীও রয়েছেন।

সান ডিয়েগোর পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সাংবাদিকদের জানান, সক্রিয় বন্দুকধারীর খবর পেয়ে মাত্র চার মিনিটের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং মসজিদের সামনে তিনজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

তিনি বলেন, আমরা এটিকে একটি বর্ণবাদী বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেইট ক্রাইম) হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। 

হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, একটি ভবনের বাইরে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জড়ো হয়েছেন এবং সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি পড়ে আছেন।

পুলিশ জানায়, নিহত নিরাপত্তাকর্মীর বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের কারণে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। নিহত অন্য দুই ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তদন্ত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে সন্দেহভাজন এক হামলাকারীর মা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। 

তিনি জানিয়েছিলেন, তার ছেলে ‘আত্মঘাতী’ প্রবণতায় ভুগছে এবং তাদের বাড়ি থেকে বেশ কিছু অস্ত্র ও একটি গাড়ি নিখোঁজ রয়েছে। 

সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এটিকে বর্ণবাদী বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ (হেইট ক্রাইম) হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। 

হামলার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই এলাকায় লকডাউন জারি করা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেয় কর্তৃপক্ষ। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সান ডিয়েগো পুলিশ ঘোষণা করে যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

ইসলামিক সেন্টার থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে রাস্তার মাঝখানে একটি গাড়ি খুঁজে পায় পুলিশ, যার ভেতরে হামলাকারীদের মৃতদেহ ছিল। তাদের একজনের বয়স ১৮ এবং অন্যজনের বয়স ১৭।  

ওয়াহল জানান, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে সন্দেহভাজনরা নিজেদের গুলিতেই মারা গেছে। পুলিশকে কোনো গুলি চালাতে হয়নি।

হামলার সময় মসজিদের নিজস্ব স্কুলটিতে অবস্থান করা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিরাপদ ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন মসজিদের ইমাম তাহা হাসান। তিনি বলেন, আমরা এর আগে কখনো এমন ভয়াবহ ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। একটি উপাসনালয়কে এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এদিকে এই হামলার ঘটনায় নিন্দা ও শোক প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাজনৈতিক নেতারা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে একটি ‘ভয়াবহ পরিস্থিতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। 

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘৃণার কোনো স্থান নেই। পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের উপাসনাকারীদের নিজেদের জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকা উচিত নয়। ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন সান ডিয়েগোর মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে আছে।

নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি একে ‘মুসলিম-বিদ্বেষী সহিংসতার স্পষ্ট রূপ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ইসলামোফোবিয়া (ইসলামভীতি) দেশের মুসলিম সম্প্রদায়গুলোকে ঝুঁকিতে ফেলছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিউইয়র্ক পুলিশও সেখানকার মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে তিনি জানান।

Related Articles

Latest Posts