আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ক্ষমতাসীন বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিরুদ্ধে ডানপন্থীদের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বড় ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারো। শনিবার সাও পাওলোতে তার দল লিবারেল পার্টির সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন ৪৫ বছর বয়সী এই সিনেটর।
তবে ফ্লাভিওর প্রচার শুরুর অনুষ্ঠানে তিনি নিজে যতটা আলোচনায় ছিলেন, প্রায় ততটাই নজর কেড়েছে বিদেশি দুই নেতার প্রকাশ্য সমর্থন। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই সরাসরি হাজির হন সম্মেলনে। আর ভিডিও বার্তা পাঠিয়ে ফ্লাভিওকে সমর্থন জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ফ্লাভিওর বাবা জাইর বলসোনারোও ছিলেন—তবে সশরীরে নয়। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বর্তমানে স্বাস্থ্যগত কারণে আদালতের সিদ্ধান্তে গৃহবন্দী। রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে তাকে দেখানো হয়।
এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের প্রভাবশালী মধ্য-ডানপন্থী দলগুলো যখন ফ্লাভিওর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে, তখন আর্জেন্টিনা ও ইসরায়েলের দুই নেতার প্রকাশ্য সমর্থন তার প্রচারে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, ব্রাজিলের নির্বাচনে বলসোনারোর ছেলের পক্ষে কেন এতটা প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন মিলেই ও নেতানিয়াহু?
মিলেইয়ের চোখে ‘লুলা ঝুঁকি’
ফ্লাভিওকে সমর্থন জানাতে অনুষ্ঠানের আগের রাতেই ব্রাজিলে পৌঁছান আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। শনিবার তিনি সাও পাওলোর গভর্নর তারসিসিও দে ফ্রেইতাসের সঙ্গে বৈঠকও করেন।
লিবারেল পার্টির সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে লুলাকে তীব্র আক্রমণ করেন মিলেই। ফ্লাভিওকে ব্রাজিলের জন্য প্রয়োজনীয় নেতা হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ব্রাজিলের ওপর ঝুলতে থাকা “লুলা ঝুঁকি”র অবসান ঘটানোর মতো আর কেউ নেই।’
মিলেইয়ের এই অবস্থানের পেছনে তার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শের বড় ভূমিকা রয়েছে। নিজেকে উদার অর্থনীতির প্রবক্তা হিসেবে তুলে ধরা এই আর্জেন্টাইন নেতা লাতিন আমেরিকার বামপন্থী রাজনীতির কট্টর সমালোচক। অন্যদিকে লুলা এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী বামপন্থী নেতাদের একজন।
ফ্লাভিওর প্রচারেও এই আদর্শিক বিভাজন স্পষ্ট। তিনি নির্বাচিত হলে কর কমানোর পাশাপাশি অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে বাবার রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
সমর্থকদের উদ্দেশে ফ্লাভিও বলেন, ‘আমি হয়তো শান্ত, বেশি হাসিখুশি, সংযত ও মধ্যপন্থী। কিন্তু আমার মধ্যে বলসোনারোর রক্ত বইছে।’
ফ্লাভিও সতর্ক করে বলেন, লুলা পুনর্নির্বাচিত হলে ব্রাজিল ‘স্বৈরতন্ত্রের দিকে বিশাল পদক্ষেপ’ নিতে পারে।
একই সুর ছিল মিলেইয়ের বক্তব্যেও। তিনি বলেন, ‘সমাজতন্ত্রের মিথ্যার বিরুদ্ধে আমরা সর্বত্র আমাদের বক্তব্য তুলে ধরে যাব।’
অর্থাৎ ব্রাজিলের নির্বাচনকে শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লড়াই হিসেবে দেখছেন না মিলেই। তার বক্তব্যে এটি লাতিন আমেরিকায় বাম ও ডানপন্থী রাজনীতির বৃহত্তর আদর্শিক সংঘাতের অংশ হিসেবেও উঠে এসেছে।
নেতানিয়াহুর সমর্থনের নেপথ্যে কী?
মিলেই সশরীরে উপস্থিত থাকলেও ভিডিও বার্তায় ফ্লাভিওর প্রচারে যোগ দেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ফ্লাভিওকে ‘বন্ধু’ সম্বোধন করে তিনি বলেন, ‘ফ্লাভিও, আমার বন্ধু, আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করায় তোমাকে অভিনন্দন।’
নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘তুমি ব্রাজিলের একজন বড় চ্যাম্পিয়ন, আমাদের দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বেরও একজন বড় চ্যাম্পিয়ন।’
ফ্লাভিওর প্রতি নেতানিয়াহুর সমর্থনের পেছনে বলসোনারো পরিবারের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষাপট রয়েছে। জাইর বলসোনারোর রাজনৈতিক শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির মধ্যে রয়েছে ব্রাজিলের ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান ভোটাররা। এ ভোটারদের বড় অংশ ইসরায়েলের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়ে থাকে।
ব্রাজিলের ডানপন্থী আন্দোলনে এই ভোটারদের গুরুত্ব এতটাই যে ফ্লাভিওর সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধের পর তার সৎমা ও সাবেক ফার্স্ট লেডি মিশেল বলসোনারোর অবস্থানও নির্বাচনী প্রচারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। নারী ও ইভানজেলিক্যাল ভোটারদের মধ্যে মিশেলের যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে।
শনিবারের সম্মেলনে ভিডিও বার্তায় ফ্লাভিওকে সমর্থন করেন মিশেলও। তিনি বলেন, ‘ফ্লাভিও, ঈশ্বর তোমার প্রার্থিতাকে আশীর্বাদ ও রক্ষা করুন।’
বাবার উত্তরাধিকার নিয়েই লড়াই
ফ্লাভিওর প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তার বাবা জাইর বলসোনারো। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে ২৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে তার। গৃহবন্দী অবস্থায় সেই সাজা ভোগ করছেন তিনি।
নির্বাচনে অংশ নেওয়াও নিষিদ্ধ সাবেক এই প্রেসিডেন্টের। ফলে রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে বড় ছেলে ফ্লাভিওকে বেছে নিয়েছেন তিনি।
গত ডিসেম্বরে বাবার আনুষ্ঠানিক সমর্থন পান ফ্লাভিও। শনিবারের সম্মেলনেও বাবার উত্তরাধিকারকেই নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
সম্মেলনে ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরে উপস্থিত হন অনেক সমর্থক। সবুজ-হলুদ এই জার্সি গত কয়েক বছরে বলসোনারো আন্দোলনের অন্যতম প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত সামরিক পুলিশ কর্মকর্তা ফার্নান্দো মোয়েনো এএফপিকে বলেন, ‘আমরা চাইতাম আমাদের প্রার্থী হোক জাইর বলসোনারো। কিন্তু এখন ফ্লাভিওই সেরা পছন্দ।’
নিজ দেশে সমর্থন পেতে বেগ
বিদেশি ডানপন্থী নেতাদের সমর্থন পেলেও ব্রাজিলের ভেতরে রাজনৈতিক জোট গড়তে হিমশিম খাচ্ছেন ফ্লাভিও। দেশটির প্রভাবশালী মধ্যপন্থী ও মধ্য-ডানপন্থী দলগুলো এখন পর্যন্ত তাকে সমর্থন না দিয়ে ৪ অক্টোবরের নির্বাচনে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবারের অনুষ্ঠানেও ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিকদের উপস্থিতি ছিল সীমিত।
এর মধ্যে জনমত জরিপেও লুলার চেয়ে পিছিয়ে পড়েছেন ফ্লাভিও। শুক্রবার প্রকাশিত ডাটাফোলহার জরিপে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলাকে ৪৮ শতাংশ এবং ফ্লাভিওকে ৪৩ শতাংশ সমর্থন দিয়েছেন ভোটাররা। জুনে ব্যবধান ছিল ৪৭ বনাম ৪৩ শতাংশ।
৮০ বছর বয়সী লুলা চতুর্থবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে তা টানা নয়। আগামী ২ আগস্ট তার দল ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রার্থিতা নিশ্চিত করার কথা রয়েছে।
একের পর এক বিতর্কে ফ্লাভিও
নির্বাচনী দৌড়ে একসময় লুলার সঙ্গে প্রায় সমান অবস্থানে ছিলেন ফ্লাভিও। কিন্তু মে মাস থেকে একের পর এক বিতর্ক তার প্রচারকে ধাক্কা দেয়।
শুরুটা হয় কারাবন্দী ব্যাংকার দানিয়েল ভোরকারোকে ঘিরে। বহু মিলিয়ন ডলারের প্রতারণার মামলায় অভিযুক্ত এই ব্যাংকারের কাছে নিজের বাবাকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে অর্থ চেয়েছিলেন ফ্লাভিও—এমন একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়।
প্রথমে ভোরকারোর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ অস্বীকার করে সেটিকে ‘মিথ্যা’ বলেছিলেন ফ্লাভিও। পরে তিনি স্বীকার করেন, ভোরকারোর সঙ্গে তার সম্পর্ক ওই চলচ্চিত্রের অর্থায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
বৃহস্পতিবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি চলচ্চিত্রটির অর্থায়ন নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এরপর প্রকাশ্যে আসে সৎমা মিশেলের সঙ্গে তার বিরোধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশেল অভিযোগ করেন, ফ্লাভিও তাকে ‘অসম্মান’ ও ‘দুর্ব্যবহার’ করেছেন এবং বলেছেন, তিনি রাজনীতির কিছুই বোঝেন না।
পরে অবশ্য ফ্লাভিও ভিডিও প্রকাশ করে মিশেলের কাছে ক্ষমা চান এবং মিশেলও তা গ্রহণ করেন।
ট্রাম্প-যোগাযোগও কি বিপদ ডেকে আনছে?
ফ্লাভিওর জন্য আরেকটি জটিল বিষয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বলসোনারো পরিবারের ঘনিষ্ঠতা।
ট্রাম্প প্রশাসন চলতি মাসে ব্রাজিলের ওপর নতুন করে দুই দফা শুল্ক আরোপ করেছে। এর আগেও জাইর বলসোনারোর বিচারের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্ককে সমর্থন করেছিল বলসোনারো পরিবার। বিষয়টি নিয়ে লুলা তাদের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ করেন।
ফ্লাভিও ও তার মিত্ররা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ককে নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন—এমন সমালোচনাও রয়েছে। অনেক ব্রাজিলীয় এটিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
এর মধ্যেই ফ্লাভিও তার বাবার মতো ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন। জাইর বলসোনারো প্রেসিডেন্ট থাকাকালে একই ধরনের অভিযোগ তোলার কারণে ২০২৩ সালে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অযোগ্য ঘোষিত হয়েছিলেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়নি ব্রাজিল
নির্বাচন ঘিরে বিদেশি প্রভাবের বিতর্কের মধ্যে দুই মার্কিন কর্মকর্তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ব্রাজিল।
এক কূটনৈতিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, নির্বাচনের তিন মাসেরও কম সময় আগে ব্রাজিলের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন ওই কর্মকর্তারা। ‘রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ঝুঁকি’ বিবেচনায় তাদের ভিসা দেওয়া হয়নি।
২০ জুলাই ভিসার আবেদন করা হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তারা ‘নির্বাচনসংক্রান্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিনে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছিলেন ফ্লাভিও। ওই বৈঠকে তিনি ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বলে খবর পাওয়া যায়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দুই কর্মকর্তা ২৭ থেকে ৩০ জুলাই ব্রাসিলিয়া সফর করে ‘নির্বাচনের স্বচ্ছতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা ও অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।
নির্বাচনকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল—এমন ধারণাকে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ বলে দাবি করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তাদের ভাষ্য, এটি ছিল একটি নিয়মিত সফর।
আন্তর্জাতিক সমর্থন বনাম দেশের ভোট
ফ্লাভিওর প্রচারের শুরুতেই মিলেই ও নেতানিয়াহুর সমর্থন দেখাচ্ছে, বাবার তৈরি আন্তর্জাতিক ডানপন্থী সম্পর্কগুলোকে নিজের পক্ষে কাজে লাগাতে চাইছেন তিনি।
মিলেইয়ের ক্ষেত্রে এই সমর্থনের আদর্শিক ভিত্তি স্পষ্ট। লাতিন আমেরিকায় বামপন্থী রাজনীতির বিরোধিতা তার রাজনৈতিক পরিচয়েরই অংশ। তাই লুলার বিরুদ্ধে বলসোনারোর রাজনৈতিক উত্তরসূরিকে সমর্থন তার বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নেতানিয়াহুর সমর্থনও বলসোনারো পরিবারের সঙ্গে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা যায়। তার বার্তায়ও ব্রাজিল-ইসরায়েল সম্পর্কের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
তবে বিদেশের প্রভাবশালী নেতাদের সমর্থন শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করবে, সেটিই বড় প্রশ্ন। কারণ ফ্লাভিওর সামনে শুধু লুলাকে হারানোর চ্যালেঞ্জ নয়; নিজ দেশের মধ্য-ডানপন্থীদের সমর্থন আদায়, সাম্প্রতিক বিতর্ক কাটিয়ে ওঠা এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ মোকাবিলাও এখন তার নির্বাচনী লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে লুলা সাম্প্রতিক জরিপে এগিয়ে যাচ্ছেন। ফলে অক্টোবরের নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হওয়ার লড়াই ততই দেশটির অভ্যন্তরীণ বাম-ডান দ্বন্দ্বের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ডানপন্থী রাজনৈতিক মিত্রতারও পরীক্ষায় পরিণত হচ্ছে।

