কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীররক্ষা বাঁধে ধস দেখা দেওয়ায় পুরো এলাকা নতুন করে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
গত বুধবার রাত থেকে উপজেলার কাঁচকোল ও সড়কটারী এলাকায় বাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার অংশজুড়ে সিসি (কংক্রিট) ব্লক নদীগর্ভে ধসে পড়তে শুরু করেছে। ভাঙনের বিস্তার অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদরপাড়ের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধটির বড় অংশ ধসে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু কাঁচকোল বা সড়কটারী নয়, চিলমারী শহরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও নদীভাঙনের মুখে পড়বে।
তারা জানান, ধসের কারণে প্রতিদিনই নতুন নতুন সিসি ব্লক নদীতে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই বাঁধ তাদের বন্যা ও ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করে আসছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই নিরাপত্তাব্যবস্থাই হুমকির মুখে পড়ায় অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
তাদের অভিযোগ, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কাঁচকোল এলাকার কৃষক আঙ্গুর হোসেন (৬০) বলেন, এই বাঁধ শুধু ব্রহ্মপুত্রের ডান তীররক্ষা বাঁধ নয়, এটি পুরো চিলমারীর জীবনরেখা। বাঁধটি ভেঙে গেলে শুধু গ্রামের মানুষ নয়, চিলমারী শহরও ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙনের কবলে পড়বে। আমাদের বসতভিটা, ফসলি জমি—সবকিছু নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। তাই দ্রুত বাঁধটি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সড়কটারী গ্রামের কৃষক শামসুল আলম (৬৫) বলেন, বাঁধ নির্মাণের আগে প্রতিবছরই বন্যা আর ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে হতো। বাঁধ হওয়ার পর আমরা কিছুটা নিরাপদে ছিলাম। এখন আবার সেই দুঃস্বপ্ন ফিরে আসছে। প্রতিদিন সিসি ব্লক ধসে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
একই গ্রামের বাসিন্দা মেহের জামাল (৫০) বলেন, আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারছি না। আরও কয়েকটি ব্লক ধসে গেলে বাঁধটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানো প্রয়োজন। আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষার এই সময়ে সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই ব্যবস্থা না নিলে প্রতিবছর একই সংকট ফিরে আসবে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে চিলমারীকে সম্ভাব্য বন্যা ও নদীভাঙনের ভয়াবহ ঝুঁকি থেকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রাথমিকভাবে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, স্থায়ীভাবে বাঁধ সংরক্ষণের সময় কিছু কারিগরি ত্রুটি থেকে যাওয়ায় প্রতিবছরই এই অংশে সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ব্রহ্মপুত্রের ডান তীররক্ষা বাঁধটি চিলমারীর রক্ষাকবচ।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের কাজ শুরু করা হবে।

