বেনাপোল স্থলবন্দরে দুর্ঘটনায় এক শ্রমিক মারা গেছেন। গত দুই দিনে বন্দরে পৃথক দুর্ঘটনায় আরও একজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত রবিউল হোসেন (২৫) বেনাপোল বন্দর থানার বৃত্তিআচড়া গ্রামের দোলা ইসলামের ছেলে। আজ শুক্রবার ভোর ৩টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বুধবার বিকেলে বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৩ নম্বর শেডে আমদানি করা পণ্য খালাসের সময় ভারী কাগজের একটি বেল রবিউলের ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
সহকর্মীরা প্রথমে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর বন্দরের ৯ নম্বর শেডে ট্রাকে ফিল্মের বড় একটি রোল তোলার সময় আহত হন শ্রমিক আক্তারুল ইসলাম (৫০)।
সেদিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ফর্কলিফট থেকে একটি ভারী যন্ত্রাংশ পিছলে তার গায়ে পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বর্তমানে হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আক্তারুল। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের চিকিৎসার বিষয়টিও তারা নিয়মিত তদারক করছেন।
শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু বন্দরে কোনো হাসপাতাল বা পর্যাপ্ত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। ফলে দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিকদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
তারা বলেন, আহত শ্রমিকদের প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে যশোরের হাসপাতালে নিতে হয়। এতে জরুরি চিকিৎসা পেতে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রুহুল আমিন বলেন, শ্রমিকের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনায় তারা দুঃখিত। দায়িত্ব পালনের সময় শ্রমিকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং উন্নতমানের ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

