বুন্দেসলিগায় পাঁচ দশকের রেকর্ড ভেঙে দিলেন কেইন

জার্মান ফুটবলে পাঁচ দশকের পুরোনো এক কীর্তি গুঁড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়েছেন হ্যালি কেইন। বুন্দেসলিগায় দ্রুততম ১০০ গোলের রেকর্ড এখন এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের দখলে। কেইনের রেকর্ডের রাতে ইউনিয়ন বার্লিনকে ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে ধসিয়ে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ।

শুক্রবার ঘরের মাঠে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে খেলে বায়ার্ন। মাত্র ৯৮ ম্যাচ খেলেই বুন্দেসলিগায় ১০০ ও ১০১ নম্বর গোলের দেখা পান কেইন। ১৯৭৭ সালে কোলনের ডিটার মুলার ১২৯ ম্যাচে ১০০ গোল করে এতদিন দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ধরে রেখেছিলেন। কেইন তার চেয়ে ৩১ ম্যাচ কম খেলেই ভেঙে দিলেন সেই রেকর্ড। 

মিউনিখে আসার পর একের পর এক রেকর্ড ভেঙে চলা কেইনের দখলে এখন বায়ার্নের জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দ্রুততম ৭৫, ১০০ ও ১৫০ গোলের রেকর্ডও। সব ধরনের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্লাবটির হয়ে ১৫৬ ম্যাচে কেইনের গোল সংখ্যা এখন ১৫৬—যা আধুনিক ফুটবলে এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান।

তবে কেইনের রেকর্ডের রাতে ম্যাচের সেরা পারফর্মার ছিলেন মাইকেল ওলিসে। জয়হীন চাপে থাকা ইউনিয়ন বার্লিনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে বড় জয় এনে দেন এই ফরাসি তারকা। ‘অক্টোবরফেস্ট’ উৎসব উপলক্ষে বিশেষ জার্সি পরে মাঠে নামা বায়ার্নের খেলায় শুরু থেকেই ছিল উৎসবের আবাহ।

১৮ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার দুর্দান্ত এক গোলে খাতা খোলে বায়ার্ন। আলফনসো ডেভিসের বানিয়ে দেওয়া বলে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে জাল কাঁপান মুসিয়ালা।

কিছুক্ষণ পর লুইস দিয়াসের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলেও কেইনের কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত আসে পেনাল্টি থেকে। বক্সের ভেতর ওলিসে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি বাঁশি বাজান রেফারি, আর তা থেকে নিখুঁত শটে নিজের শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন কেইন। বিরতির ঠিক আগে মুসিয়ালার পাস থেকে ডি-বক্সের কোনা দিয়ে দর্শনীয় শটে বায়ার্নকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন ওলিসে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছিল বার্লিন। তবে ম্যানুয়েল নয়ার পরপর দুটি সেভ করে বায়ার্নকে রক্ষা করেন, যার মধ্যে ইয়ানিক হাবেরারের একটি নিশ্চিত সুযোগ নস্যাৎ হওয়া ছিল অন্যতম। চার ম্যাচে ১৭ গোল হজম করা বার্লিনের এই আসরে প্রথম জয়ের অপেক্ষা তাই আরও বাড়ে।

সেই সুযোগ মিসের পরই ৫৪ মিনিটে চতুর্থ গোলটি হজম করে সফরকারীরা। ডান দিক থেকে ওলিসের চমৎকার ক্রসে নিখুঁত হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কেইন।

এক ঘণ্টার খেলা শেষে ইসমায়েল সাইবারি বদলি হিসেবে নামার সাত মিনিটের মাথায় বায়ার্নের হয়ে নিজের প্রথম গোল পান। ডেভিসের পাস ধরে ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে পঞ্চম গোলটি করেন মরক্কোর এই তারকা।

তিন মিনিট পর অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে দলের ষষ্ঠ ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন ওলিস। তিন মিনিট পর টম বিশফের বাড়ানো বল ধরে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এই ফরাসি।

গত জানুয়ারিতে উলফসবুর্গের বিপক্ষে ৮-১ ব্যবধানে জয়ের পর এটিই বায়ার্নের সবচেয়ে বড় জয়। এই জয়ে সাময়িকভাবে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে তারা। তবে শনিবার ফ্রাইবুর্গ ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ড নিজ নিজ ম্যাচে জিতলে আবার শীর্ষে ফেরার সুযোগ থাকবে দল দুটির সামনে।

 

Related Articles

Latest Posts