বারনই নদীতে মাছের মড়ক কেন?

নাটোরে বারনই নদীতে মাছের মড়কের পর প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। এ তথ্য জানিয়েছেন নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বারনই নদীতে অনেক পরিমাণ মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখা যায়। এই নদী নলডাঙ্গা থেকে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলা পর্যন্ত প্রবাহিত।

ঘটনার পর নদীর উপরিভাগে ভেসে থাকা মাছ ধরার জন্য স্থানীয়রা ভিড় জমান। গ্রামবাসীদের দাবি ছিল, নদীর পানি দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে যাওয়ায় শুক্রবার মাছের এই ব্যাপক মৃত্যু ঘটেছে। তবে গত দুদিন ধরে আর কোনো মাছ ভাসতে দেখা যায়নি।

নদীর তীরে বসবাসকারী বাসিন্দারা মূলত স্থানীয় দেশি প্রজাতির ছোট ছোট মাছ ভাসতে দেখে সেগুলো ধরেন।

নলডাঙ্গা উপজেলার বশিলা গ্রামের স্থানীয় জেলে ভবেশ চন্দ্র সাংবাদিকদের বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পানি নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। তিনি মনে করেন, এই পচা পানির কারণেই মাছগুলো মারা গেছে।

মাছের মড়কের খবর পাওয়ার পর নাটোর জেলা মৎস্য কার্যালয় রোববার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তিন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি ক্ষয়ক্ষতির সঠিক কারণ নির্ধারণে কাজ করছে।

নাটোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন, ‘তদন্ত কমিটি এরইমধ্যে পরীক্ষার জন্য নদী থেকে পানি ও মাছের নমুনা সংগ্রহ করেছে। রাসায়নিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ার পাশাপাশি অ্যামোনিয়ার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছিল, যা মাছের এই মড়কের কারণ।’

এই কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করেন, স্বাভাবিক অবস্থায় অ্যামোনিয়ার মাত্রা প্রতি লিটারে শূন্য দশমিক ২৫ মিলিগ্রামের কাছাকাছি থাকলে মাছ বেঁচে থাকতে পারে। তবে বারনই নদীতে অ্যামোনিয়ার মাত্রা বেড়ে ১ দশমিক ৫ মিলিগ্রামে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই সময়ে অক্সিজেনের মাত্রাও সহনীয় সীমার নিচে নেমে গিয়েছিল।

হঠাৎ রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতার কারণ জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা জানান, পাশের বিল ও নদীর পাড়ে পাট পচানোর ফলে পানিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব বর্জ্য মিশেছে। এ ছাড়া শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য এবং পোল্ট্রি ফার্মের বর্জ্য ক্রমাগত নদীতে ফেলার ফলে নদীর পানির গুণমান আরও খারাপ হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ বলেন, ‘মেঘলা আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ ওঠায় এবং নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ায় এখন পরিস্থিতির এখন উন্নতি হচ্ছে।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন, পানি দূষণ রোধ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নদীতীরের বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

তিনি জানান, তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে এবং এরপর তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Latest Posts