বাড়ির মালিকের ৯ টুকরো মরদেহ উদ্ধার, ভাড়াটিয়া আটক

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক নারীর ৯ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার ভাড়াটিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) ওই এলাকার মফিজুল ইসলামের স্ত্রী।

আটক লাইলী আক্তার দেবিদ্বার পৌর এলাকার চাঁপানাঘর গ্রামের আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদা ইয়াসমিন প্রায় ৩০ বছর ধরে ছোট আলমপুর এলাকায় বসবাস করছিলেন। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন। তাদের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে। তাই ফরিদা ইয়াসমিন বাড়িতে একাই থাকতেন। বাড়ির একটি কক্ষ লাইলী আক্তারের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।

শনিবার সকালে ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার বাবার বাড়িতে এসে মাকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যায় ফরিদা ইয়াসমিনের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় প্যাকেটগুলো খুলে তিনি ফরিদার খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে আটক করে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী আক্তার হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় লাইলী তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ এবং রবিউল, সোহেল ও ইমন নামের আরও তিন যুবকের নাম বলেছেন। হত্যাকাণ্ডে তাদের কার কী ভূমিকা ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের পা ও মাথা এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত চারজনকে আটকের চেষ্টা চলছে।

 

 

 

Related Articles

Latest Posts