ছাত্রদল নেতার মরদেহ নিয়ে থানা ঘেরাও

ঢাকার সাভারে ছাত্রদল নেতা মোনারুল হোসেন বকসীর মৃত্যুর ঘটনায় তার মরদেহ নিয়ে রংপুরের পীরগাছা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।

শনিবার সকালে পীরগাছা থানার সামনে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছালে ছেলের মরদেহ জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জাফর আলী বকসী। পরে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা থানার সামনের সড়ক অবরোধ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।  

নিহত মনোয়ারুল হোসেন বকসী (২৯) সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি। তার বাবা জাফর আলী বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) নিরাপত্তাকর্মী। সেখানকার আবাসিক ভবনে বাবার ফ্ল্যাটে থাকতেন মোনারুল। তাদের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জের দক্ষিণ হাতিবান্ধায়।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সাভারে পুলিশের অভিযান চলাকালে ছাদ থেকে পড়ে মোনারুলের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ উঠে।  

পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা আইনিভাবে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।’

পুলিশ জানায়, পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের শফিকুল ইসলাম মিন্টু তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে মিমি আক্তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গত ২৩ জুলাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ওই জিডির সূত্র ধরে মিমির অবস্থান শনাক্তে পীরগাছা থানার এসআই কনক চন্দ্রের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়।

একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, মিমি সাভারের বিপিএটিসি স্টাফ কোয়ার্টারে অবস্থান করছে। পরে ৭ আগস্ট সাভার মডেল থানা ও পীরগাছা থানার পুলিশ সেখানে যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় মোনারুলের বাবার সঙ্গে পুলিশ সদস্যদের কথাবার্তার একপর্যায়ে ভবনের ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ শোনা যায়। পরে নিচে মোনারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন মৃত্যু ঘোষণা করেন।

মোনারুলের ভাই মমদেল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘মিমিকে উদ্ধারে তার বাবা মিন্টু পুলিশের সঙ্গে সাভারে যান। পুলিশের সহযোগিতায় মিন্টু আমার ভাইকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছেন। ছাদে আমার ভাইয়ের সঙ্গে হয়তো মিন্টুর কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। একপর্যায়ে তিনি ধাক্কা দিয়ে আমার ভাইকে নিচে ফেলে দেন। পরে নিচে নেমে তারা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু আমরা ভাইকে বাঁচাতে পারিনি।’

‘মরদেহ দাফন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আমরা এখনো মামলা করতে পারিনি। আমরা সাভার মডেল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি,’ বলেন তিনি।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, নিহতের স্বজনরা মরদেহ নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাদের মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

তিনি আরও বলেন, সাভারে পীরগাছা থানার পুলিশ কেন ও কীভাবে গিয়েছিল, কী তথ্যউপাত্তের ভিত্তিতে গিয়েছিল এবং কারা সেখানে ছিলেন, এসব বিষয়ে তাদের কিছু প্রশ্ন ছিল। তাদের বিস্তারিত জানানো হয়েছে। পরে তারা মরদেহ নিয়ে চলে যান।

এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, বিষয়টি বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হবে। পুলিশের কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Latest Posts