প্রথম ওভারে দুই উইকেট, তবু পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ ইংল্যান্ডের

জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ১৩০ রান। এত ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে হঠাৎ চাপে পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। তবে পাকিস্তানের স্বপ্নের শুরুটা শেষ পর্যন্ত দুঃস্বপ্নেই পরিণত হলো। জো রুট ও জর্ডান কক্সের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়ে এজবাস্টনে তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছে স্বাগতিকরা।

মোহাম্মদ আব্বাসের প্রথম ওভারেই বেন ডাকেট ও এমিলিও গেকে ফিরিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন। মাত্র ১৩০ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে ইংল্যান্ড তখন বিপাকে। এরপর রেজাউল্লাহর বলে নিজের প্রথম বলেই স্লিপের পাশ দিয়ে চার মেরে কিছুটা স্বস্তি ফেরান রুট।

তবে ইংল্যান্ডের রেকর্ড রানসংগ্রাহকও পুরোপুরি স্বস্তিতে ছিলেন না। মোহাম্মদ আলীর বলে ব্যাটে লেগে বল স্টাম্পে আঘাত করলেও আম্পায়ার নো বল ডাকায় বেঁচে যান রুট। উইকেট পাওয়ার আনন্দের বদলে হতাশায় মাথায় হাত দিতে হয় বোলারকে। এরপর আব্বাসের বলে প্রথম ও দ্বিতীয় স্লিপের মাঝ দিয়ে বল বেরিয়ে গেলেও আবারও জীবন পান রুট, দুই ফিল্ডারের কেউই বলের দিকে নড়েননি।

সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন রুট। ৫৭ বলে চার মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। অন্য প্রান্তে কক্সও কিছুক্ষণ পর পঞ্চাশে পৌঁছে যান। দুজন মিলে আর কোনো বিপদ হতে দেননি। ২৫তম ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। রুট অপরাজিত থাকেন ৬২ রানে, কক্স অপরাজিত ৫৯।

এর আগে শুক্রবারই মনে হচ্ছিল তিন দিনের মধ্যেই ম্যাচ শেষ করে ফেলবে ইংল্যান্ড। কিন্তু পাকিস্তানের ২১ বছর বয়সী অভিষিক্ত পেসার রেজাউল্লাহ ব্যাট হাতে হঠাৎ ঝড় তুলে হিসাবটা বদলে দেন। মাত্র ৬৩ বলে ৮১ রান করেন তিনি, ইনিংসে মারেন নয়টি ছক্কা। নবম উইকেটে আরেক পেসার আব্বাসের সঙ্গে তাঁর ১২১ রানের জুটি পাকিস্তানকে ১২৯ রানের লিড এনে দেয় এবং ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়।

রেজাউল্লাহর এই বীরত্ব পাকিস্তানের জন্য অন্তত কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও পুরো সিরিজের হতাশা কাটানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। প্রথম টেস্টে ইনিংস ও ১০৩ রানে এবং দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে হেরেছিল তারা। শেষ ম্যাচেও প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে অলআউট হয়ে শুরুতেই বড় চাপে পড়ে পাকিস্তান।

সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে বড় হারের পর সাতজন খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং তাঁদের জায়গায় সাতজন নতুন খেলোয়াড় দলে যোগ দেন। তাঁদেরই একজন ছিলেন রেজাউল্লাহ। একই সময়ে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও সহকারী কোচ উমর গুলকেও বরখাস্ত করা হয়।

তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তান একাদশে চারটি পরিবর্তন আনে। প্রথম ইনিংসে ১৩৩ রানে গুটিয়ে গেলেও পরে তারা ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই করার মতো অবস্থায় পৌঁছেছিল। শান মাসুদের ৯৫, বাবর আজম ও আজান আওয়াইসের ফিফটির পর রেজাউল্লাহর ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে কিছুটা হলেও চাপে ফেলতে পেরেছিল তারা।

তবে এই সিরিজ জয়েই ইংল্যান্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ শেষ হচ্ছে না। সামনে ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ। এরপর আগামী বছর ঘরের মাঠে অ্যাশেজ।

 

Related Articles

Latest Posts